ঢাকা: স্বভাবত নারীরা একটু সংবেদনশীল হয়। যেকোন বিষয় নিয়ে তারা একটু বেশি চিন্তিত হয়ে উঠে। কোন সহজ একটি বিষয়কে তারা জটিল করে ফেলে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অনেক বিষয় শামলাতে হয়।
স্বামী, সন্তান ও চাকুরী শামলাতে গিয়ে তাদের বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। একারণে তারা নিজেদের দোষী বলে মনে করে দুশ্চিন্তায় পড়েন। বুধবার ভারত থেকে প্রকাশিত গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াতে নারীদের এসব বিড়ম্বনা মেটাতে কয়েকটি উপদেশ দেয়া হয়েছে।
১.পুরুষের পাশাপাশি এখন নারীরা বিভিন্ন অফিস আদালতে কাজ করে থাকে। যখন তারা অফিসে যায় তখন তারা বাড়িতে রেখে যাওয়া ছোট্র শিশুদের নিয়ে চিন্তায় থাকেন। এক্ষেত্রে তারা অফিসের কাজে মনোনিবেশ করতে পারেনা। তাদের জন্যে পরামর্শ হচ্ছে যখন আপনি অফিসে থাকবেন তখন অফিসের কাজে শতভাগ মনোনিবেশ করবেন। যখন বাড়িতে থাকবেন তখন শতভাগ সময় সংসারের জন্য দিবেন।
২.নারীরা তাদের চেহারা ও শরীরের ওজন নিয়ে বিশেষভাবে শতর্ক থাকে। এসব বিষয়ে একটু এদিক ওদিক হলে তারা চিন্তায় পড়ে যান। তারা মনে করেন তার নিজের দোষের কারণেই এসব হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা না করে আপনি পাশের কারো পরামর্শ নিন। যদি আপনার শরীরের ওজন বেশি বেড়ে যায় তাহলে নিয়মিত জিমে যান। তাতে না হলে অন্যকোন ব্যবস্থা নিন। তবে হতাশ হবেননা।
৩. তাছাড়া নারীরা যখন শপিং করতে যান তখন মার্কেটে গিয়ে আবেগের সাথে বিভিন্ন দোকানীর সাথে বা অন্যকারো সাথে নানা ধরণের কথা বলে থাকেন। এনিয়ে পরবর্তীতে তাদের অনুশোচনা হয়। তাছাড়া তারা কত টাকা দিয়ে কেনাকাটা করলেন বা তা ঠিক হয়েছে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন।
৪.অনেক নারী আছেন যারা পেশাগতভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত থাকায় তার প্রিয়জন তথা স্বামীর সাথে ঠিকমত সময় ব্যয় করতে পারেননা। তারা সবসময় চিন্তা করেন যে এটি ঠিক হচ্ছে কিনা। এজন্য তাদের প্রতি পরামর্শ হচ্ছে স্বামী- স্ত্রী একসাথে বসে আলাপ করে আলাদা সময় বের করে নিন।
৫.তাছাড়া কোনকিছুতে দেরি হয়ে গেলে নারীরা বিষণœ হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে আপনি ধের্য্যরে সাথে অপেক্ষা করতে শিখুন।
৬.আতিথেয়তার ক্ষেত্রে নারীরা খুবই পারদর্শী। এক্ষেত্রে তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে ভালবাসেন। কারণ আয়োজনে কোন কিছুতে কম হয়ে গেলে তাদের মন খারাপ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভাল।
৭.তাছাড়া নারীরা তাদের নিজেদের জন্মদিন নিয়ে খুবই সচেতন। যদি তার কাছের কোন মানুষ তার জন্ম দিনে তাকে স্মরণ না করেন তাহলে তিনি খুবই কষ্ট পান। কারো জন্মদিনের কথা মনে না থাকতেই পারে। এজন্য আপনি তাকে আপনার জন্মদিনের পূর্বে আপনার জন্মদিন সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করুন।
৮.বর্তমান যুগে নারীরা সমাজের বিভিন্ন উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত আছেন। এনিয়ে আবার অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। তা নিয়ে আপনার বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই। আপনি তাদেরকে আপনার অবস্থানের কথা নিশ্চিত করে বলুন। তাহলে আপনি সবার কাছে ভাল থাকবেন।
৯.নারীদের অনেকের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের দোষী করে রাখা হয়। অনেক পরিবার আছে যারা তাদের নিজেদের জন্যে কিছু না করায় তাদের পরিবারের মেয়েদের অন্যচোখে দেখে। এজন্য মেয়েদের উচিৎ তার পরিবারের সবার চাহিদার কথা চিন্তা করা এবং সে অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলা।
১০. বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয় বা বিভিন্ন সম্যসা মোকাবেলার জন্যে নারীদের ভূমিকা পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে আপনি কোনকিছু না পারলেও মন খারাপ না করে অন্যের সাহায্য নিন।
নারীরা নিজেদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের কারণে অকারণে দোষী মনে করে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। একারণে তাদের প্রায়ই শরীর খারাপ হয়ে যায়। তবে তারা এসব পরামর্শ মেনে চললে অনেক উপকৃত হবেন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন