-ওওওও!! আপনিই তাহলে সেই বাঁদরটা!?
-কোন বাঁদর?
-হাতেনাতে ধরা খাওয়ার পরেও বাঁদরামী হচ্ছে? প্রতিদিন বিকেলে দরজা নক করে দৌড় দেন কি জন্য?
-তাহলে কি দাঁড়িয়ে থাকবো?
-কারণ বলেন।
-ভুলে!
-কিসের ভুলে?
-মনের
-উফ্!! ডিটেইলস!!
-চারতলা ভেবে নক করে ফেলি! নক করার পরেই মনে পড়ে আরো একতলা বাকি আছে!
-আগে মনে পড়ে না কেন?
-মনের অসুখ হইছে!
-কি অসুখ?
-ভুল করে বারবার!!
-সারবে কিসে?
-বিকেলের ছাদে পায়চারীতে।
-তাহলে যাচ্ছেন না....
-আরো একজোড়া পায়ের দরকার। আমার সাথে তাল মেলাতে হবেনা। শুধু হাঁটলেই হবে। আমি মুগ্ধ হবো সাথে সুস্থ।
-আমি পারছি না।
-অনুরোধের ডাক ফেরাতে হয় না। মাত্র একবার।
-আসছি । তবে শেষবারের মতো।

নিপাদের দরজায় টুংটাং দুটো শব্দ করে দৌড় দেওয়া এবং ছাদে গিয়ে আকাশ মাপা আমার বিকেলের স্বভাব। ছাদের গায়ে নিপার হাঁটার শব্দ আমাকে নেশাগ্রস্ত করে দিয়েছিলো। সেই থেকে আমি ছাদের প্রেমে মশগুল!
ধরা খেয়েছি বলে দুঃখ পাওয়া উচিত। নিপা আসবে বলে পাওয়া উচিত সুখ। সুখ দুঃখের মিশেলে পাগল আমি আকাশ মাপায় ব্যস্ত!

-এবার আমি গেলাম।
-আসার আগেই যায় কিভাবে?
-শুরুর আগেই যেভাবে হয় শেষ।
-ভালোবাসা হতে পারে উদাহরণ।
-হুম...

পায়চারীতে তাল মিলেছে। আকাশ পরিমাপে কোন তাড়াহুড়ো নেই। ধীরে সময় গড়াক। আরেকটু হাঁটতে হবে।

-আর কখনো ভুল করবেন না।
-তাহলে আবার শেষ থেকে শুরু করতে হবে!
-আমি আর আসবো না।
-বারবার ভুল করবো।
-আস্তে করলে নিষেধ নেই। মা জানলে মাশুল হবে কঠিন ।
-আমি প্রস্তুত থাকবো।

বিকেলের দরজায় মনোযোগী মেয়েটা ভালোবাসতে জানে। নরম মনের অধিকারীনি অসুখ সারাতে বারবার হাঁটবে আমার সাথে। আমি সুখী দুখী ভাব নিয়ে তাকে ভালোবেসেই যাবো।
বিকেলের ভুলগুলো খুব সুন্দর।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Top