-আপনি বেঁচে আছেন?

-হ্যাঁ তুলি।

-কেন বেঁচে আছেন? আপনার মত মানুষের বেঁচে থাকার কী দরকার!

-আমিও ঠিক জানিনা।

-কী জানেন? খেয়েছেন দুপুরে?

-বিয়ের দাওয়াত ছিল।


-কার? আপনি বিয়ের দাওয়াতে কী ঐ ফুটাওয়ালা শার্ট পড়ে গেলেন?

-কোন শার্ট? তুলি আমারতো একটাই শার্ট।

-একটা কথা বলি স্যার। আপনি এখন আমার স্যার নন তাই কথাটা বলতে পারছি। আমার মনে হয় নাদিয়া আপু বলে আপনার জীবনে কেও নেই। আমি কি ঠিক বলেছি?

-হ্যাঁ।

-কীভাবে বুঝলাম জানেন। নাদিয়া আপু বলে কেও থাকলে আপনাকে শার্ট কেনার কথা বলতো।

-তুলি তোমার অনেক বুদ্ধি।

-আমার বুদ্ধি এখন কী বলছে জানেন? আমার বুদ্ধি বলছে আপনি যেখানেই আছে, সেখানেই আমার যাওয়া দরকার। আপনি কোথায় আছেন স্যার?

-আমি বাসায়। চা বানাচ্ছি।

তুলি নিশ্চিত স্যার চা বানাতে গিয়ে দেখবেন চিনি নেই। তবুও লোকটা চিনি কিনবেনা। চিনি ছাড়া চা ই খুব আরাম করে খাবেন। একবার তুলি ইচ্ছে করে স্যারের জন্য বানানো চা এ লবণ দিয়েছিল। স্যার সেই চা কোন আপত্তি না তুলে শেষ করলেন। তুলি জিগ্যেস করেছিল- আজকের চা টা কেমন স্যার? আমি স্পেশাল করে বানিয়েছি। স্যার বললেন- স্পেশাল চা খুবই ভালো হয়েছে।

-আপনার বাসায় চিনি নেই।

-তুমি কী করে জানলে? কী মুশকিল বলো, কিছুদিন আগেই কিনে আনলাম। কোথায় যে গেল।

-আপনিই খেয়েছেন। বা হতে পারে কোন পেত্নী এসে লাচ্ছা সেমাই রান্না করে খেয়েছে।

-আচ্ছা আচ্ছা।

-আপনি সেমাই খেয়েছিলেন?

-খেয়েছি তুলি। স্পেশাল সেমাই খুবই ভালো হয়েছে। তবে এ বাসায় তোমার আসা ঠিক হয়নি।

-কেন? বাড়িওয়ালা রাগ করেছে?

-হ্যাঁ।

-বড়িওয়ালাকে বলবেন আমি আপনার বৌ।

-আচ্ছা আচ্ছা।

-কেন বলবেন? আমি কি আপনার বৌ?

-না।

-কে আমি?

শেষ প্রশ্নটা তুলি স্যারকে করেনি। নিজেকে করেছে। একটা মানুষের এত খোঁজ খবর নেয় সে, অথচ সেই মানুষটা কখনো তাকে ফোন করে বলেনি- তুমি কেমন আছ তুলি? তুলি মনের আনন্দ লুকিয়ে মুখ শুকনো করে বলতো- আমি একটুও ভালো নেই স্যার।

ভালো না থাকা কথাটা মিথ্যে হলেও প্রিয় মানুষকে ভালো নেই বলতে পারার মাঝেও একপ্রকার সুখ আছে। খুব গভীরে কোথাও একটু প্রতীক্ষা থাকে, সেই মানুষটা কোনদিন জানতে চাইবে- কেন ভালো নেই? কী হয়েছে বলো।

লিখেছেন - মাজহার মিথুন

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Top