by- বিপাশা আখতার
-মেঘ বলেছে যাবো…যাবো…
গান গাচ্ছ?
ইয়ে মানে না।একটু অফিসের কাজ গুছিয়ে রাখছিলাম।হাসি মুখে জবাব দেয় অবনী।
-হুম।এইটুক বলেই পাশে বসে পরে ইসতিয়াক।
.
গত একসপ্তাহ অথবা দুই সপ্তাহ…অথবা…আসলে ইসতিয়াক অবনী কেউ ই জানে কত দিন তারা ঠিকমত বসে কথা বলে না।ইসতিয়াকে কাজের চাপ হুট করে বেড়ে যাওয়ায় তার মানসিক চাপও বেড়েছে।অথবা অফিসে কোথাও কোন ঝামেলা হয়েছে।তবে এসব নিয়ে সে কোন কথাই বলে না।দুম মেরে বসে থাকে।বহু বছরের সম্পর্কে অবনী এতটুকু জানে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে না।রেগে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে বসবে।বাসায় ফিরে সে অবনীর সাথে খায়,তার পাশেই বসে টিভি দেখে,ফেইসবুকে লগইন করে,সাথেই ঘুমায়।কিন্তু পরস্পর যেন দুই জগতের বাসিন্দা।অবনীও চুপচাপ অপেক্ষা করে যায়।অথবা তার একটু অভিমানও জন্মায়।কাজতো থাকেই মানুষের জীবনে।বাচাঁর জন্য কাজতো করতেই হয়।সেও কাজ করে।তার কাজেও উত্থান-পতন আসে।তাই বলে নিজেকে অদৃশ্য বদ্ধ ঘরের বাসিন্দা করে ফেলতে হবে!তারপর কোথায় যেন পড়েছিল এমন একটা লাইন মনে পরে।‘পুরুষের কাজ ঠিকতো ঘর ঠিক,আর নারীর ঘর ঠিক তো কাজ ঠিক’।আর সে অভ্যস্তও বটে।কিন্তু মাঝে মাঝে বড় ক্লান্ত লাগে।তারো কিছু কথা থাকে।সেগুলো জায়গা না পেয়ে কোথায় হারিয়ে যায়।গত সোমবার তাদের প্রথম দেখার ৭বছর পার হয়েছে।তাদের ডিল এটাই ছিল যে প্রতি বছর এই বছর তারা একসাথে কাটাবে।দুইজন দুই শহরে বসে প্রেম করত কিনা।বিয়েরপর থেকে তো একসাথেই।আগের বছর গুলোতে সেলিব্রেটও করেছে।তবে প্রতিবারই অবনীরই মনে করিয়ে দিতে হয়।এবার অবনী সাহসই পায় নি কিছু বলার।পরিস্থিতিই ভিন্ন।সেইদিনটাতেও ইসতিয়াক একি ভাবে ঘরে ফিরেছে,খেয়ে দেয়ে শুয়ে পরেছে।অবনী ঘুমাতে পারেনি।তার মন বারবার অবুঝ হচ্ছিল,প্রচন্ড অভিমানে গলা ধরে আসছিল।তার বারবার মনে হচ্ছিল,ইসতিয়াকের এইসবের ভীরে আমি কই আসলে?আমার অস্তিত্বটা কোথায়?কিন্তু ইসতিয়াককে একটা শক্ত কথা শোনাবে এই শক্তি জুটিয়েই উঠতে পারল না।সে অপেক্ষাই করে যায়।আর গভীর মনে প্রার্থনা করে ইসতিয়াকের সমস্যা গুলো মিটে যাওয়ার জন্য।
.
-তারপর তোমার দিন কেমন যায়?অবনী কাগজ পত্র গুছাতে গুছাতে নিচের দিকে তাকিয়েই জিজ্ঞেস করে।
ইসতিয়াকও কথা বলার সুযোগ পেয়ে একটু স্বস্তি পায়।–দিন ভাল যায়।
অফিসের ঝামেলাটা মিটে গেছে।এই নিয়ে খুব টেনশনে ছিলাম।
গুড…ভেরি গুড।–আবারো হাসি মুখে জবাব দেয় অবনী।এবং এর পরের কথা ফুরিয়ে যায়।
ঘরে কেবল কাগজ পত্র গুছানোর শব্দ।আর দূরের রাস্তা থেকে গাড়ির হর্ন এর শব্দ ভেসে আসছে।
-আমি সরি অবনী।
হুম।–অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয় অবনী।কোনভাবেই সে কাদঁতে চায় না।মুখ ফিরিয়ে সে মনে মনে বহু কথা গুছিয়ে ফেলে।ইসতিয়াক নিশ্চই এখন বলবে-আমার আসলে উচিত হয়নি,কাজতো থাকেই কিন্তু তোমাকে আমার এতটা ইগ্নোর করা ঠিক হয়নি।তুমি অনেক কষ্ট পাইছ না?আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিছি না?.........
.
.
কিন্তু সমস্যা হল মিনিট দেড় পার হয়ে যায় কিন্তু ইসতিয়াক এসব কিছুই বলে না।গাবদার মত চুপ মেরে বসেই থাকে।ও ঘাড় ঘুরানোর সাথে সাথে বলে
-আই লাভ ইউ অবনী।
এইটুকই।এইটুকই কেন বলে সবসময় ছেলেটা।রাগে চুল ছিড়তে ইচ্ছা করে অবনীর।৭টা খুন করে আসার মত অন্যায় করে আসলেও একটা সরি আর আই লাভ ইউ।সর্বোচ্চ বলবে আমি আসলেই তোমাকে ভালবাসি।অনেক অনেক ভালবাসি।এতগুলা বছর ধরে এর চেয়ে বেশি কিছু শোনার কপাল অবনীর হয় নাই।আর এও সে জানে এখন যদি সে খুটিয়ে খুটিয়ে কিছু জানতে চায় তাহলে ইসতিয়াকের অকারন মেজাজ খারাপ হবে।যেমন সে যদি বলে যে তোমার কেন মনে হয় তুমি আমাকে ভালবাস?ইসতিয়াক বলবে তা জানিনা।–কেন জাননা?
তাতো জানিনা।
তাতো জানিনা এইটা কেমন কথা?
জানিনা তো জানিনা।কিন্তু এত প্রশ্ন কইরনা।
কিন্তু ঝামেলাটা অন্যখানে।এইটুক শুনলেই অবনীর মনে হতে থাকে এই ছেলেটা একটা কুটনা আর একটা শয়তান! কিন্তু… এরে ছাড়া সে বাচঁবেনা!কোন কোন ভাবেই না!!
ছাড়ো…তুমি তোমার মন খারাপ নিয়েই পরে থাকো,কাজ নিয়েই পরে থাকো…আমারে কি দরকার!হাউ মাউ করে কাদঁতে থাকে অবনী।আদর পাইলে মেয়ে মানুষের দুঃখু একটু বেশি উতলাইয়া ওঠে এই আরেকটা সমস্যা।
এরপর খুব কমন একটা ব্যাপার হবে…অবনী –তুমি এইটা কেন করছ……ওইটা কি ঠিক ছিল?...............
ইসতিয়াক-……আমি সরি জান…আমি সত্যি তোমাকে অনেক ভালবাসি………।
-মেঘ বলেছে যাবো…যাবো…
গান গাচ্ছ?
ইয়ে মানে না।একটু অফিসের কাজ গুছিয়ে রাখছিলাম।হাসি মুখে জবাব দেয় অবনী।
-হুম।এইটুক বলেই পাশে বসে পরে ইসতিয়াক।
.
গত একসপ্তাহ অথবা দুই সপ্তাহ…অথবা…আসলে ইসতিয়াক অবনী কেউ ই জানে কত দিন তারা ঠিকমত বসে কথা বলে না।ইসতিয়াকে কাজের চাপ হুট করে বেড়ে যাওয়ায় তার মানসিক চাপও বেড়েছে।অথবা অফিসে কোথাও কোন ঝামেলা হয়েছে।তবে এসব নিয়ে সে কোন কথাই বলে না।দুম মেরে বসে থাকে।বহু বছরের সম্পর্কে অবনী এতটুকু জানে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে না।রেগে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে বসবে।বাসায় ফিরে সে অবনীর সাথে খায়,তার পাশেই বসে টিভি দেখে,ফেইসবুকে লগইন করে,সাথেই ঘুমায়।কিন্তু পরস্পর যেন দুই জগতের বাসিন্দা।অবনীও চুপচাপ অপেক্ষা করে যায়।অথবা তার একটু অভিমানও জন্মায়।কাজতো থাকেই মানুষের জীবনে।বাচাঁর জন্য কাজতো করতেই হয়।সেও কাজ করে।তার কাজেও উত্থান-পতন আসে।তাই বলে নিজেকে অদৃশ্য বদ্ধ ঘরের বাসিন্দা করে ফেলতে হবে!তারপর কোথায় যেন পড়েছিল এমন একটা লাইন মনে পরে।‘পুরুষের কাজ ঠিকতো ঘর ঠিক,আর নারীর ঘর ঠিক তো কাজ ঠিক’।আর সে অভ্যস্তও বটে।কিন্তু মাঝে মাঝে বড় ক্লান্ত লাগে।তারো কিছু কথা থাকে।সেগুলো জায়গা না পেয়ে কোথায় হারিয়ে যায়।গত সোমবার তাদের প্রথম দেখার ৭বছর পার হয়েছে।তাদের ডিল এটাই ছিল যে প্রতি বছর এই বছর তারা একসাথে কাটাবে।দুইজন দুই শহরে বসে প্রেম করত কিনা।বিয়েরপর থেকে তো একসাথেই।আগের বছর গুলোতে সেলিব্রেটও করেছে।তবে প্রতিবারই অবনীরই মনে করিয়ে দিতে হয়।এবার অবনী সাহসই পায় নি কিছু বলার।পরিস্থিতিই ভিন্ন।সেইদিনটাতেও ইসতিয়াক একি ভাবে ঘরে ফিরেছে,খেয়ে দেয়ে শুয়ে পরেছে।অবনী ঘুমাতে পারেনি।তার মন বারবার অবুঝ হচ্ছিল,প্রচন্ড অভিমানে গলা ধরে আসছিল।তার বারবার মনে হচ্ছিল,ইসতিয়াকের এইসবের ভীরে আমি কই আসলে?আমার অস্তিত্বটা কোথায়?কিন্তু ইসতিয়াককে একটা শক্ত কথা শোনাবে এই শক্তি জুটিয়েই উঠতে পারল না।সে অপেক্ষাই করে যায়।আর গভীর মনে প্রার্থনা করে ইসতিয়াকের সমস্যা গুলো মিটে যাওয়ার জন্য।
.
-তারপর তোমার দিন কেমন যায়?অবনী কাগজ পত্র গুছাতে গুছাতে নিচের দিকে তাকিয়েই জিজ্ঞেস করে।
ইসতিয়াকও কথা বলার সুযোগ পেয়ে একটু স্বস্তি পায়।–দিন ভাল যায়।
অফিসের ঝামেলাটা মিটে গেছে।এই নিয়ে খুব টেনশনে ছিলাম।
গুড…ভেরি গুড।–আবারো হাসি মুখে জবাব দেয় অবনী।এবং এর পরের কথা ফুরিয়ে যায়।
ঘরে কেবল কাগজ পত্র গুছানোর শব্দ।আর দূরের রাস্তা থেকে গাড়ির হর্ন এর শব্দ ভেসে আসছে।
-আমি সরি অবনী।
হুম।–অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয় অবনী।কোনভাবেই সে কাদঁতে চায় না।মুখ ফিরিয়ে সে মনে মনে বহু কথা গুছিয়ে ফেলে।ইসতিয়াক নিশ্চই এখন বলবে-আমার আসলে উচিত হয়নি,কাজতো থাকেই কিন্তু তোমাকে আমার এতটা ইগ্নোর করা ঠিক হয়নি।তুমি অনেক কষ্ট পাইছ না?আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিছি না?.........
.
.
কিন্তু সমস্যা হল মিনিট দেড় পার হয়ে যায় কিন্তু ইসতিয়াক এসব কিছুই বলে না।গাবদার মত চুপ মেরে বসেই থাকে।ও ঘাড় ঘুরানোর সাথে সাথে বলে
-আই লাভ ইউ অবনী।
এইটুকই।এইটুকই কেন বলে সবসময় ছেলেটা।রাগে চুল ছিড়তে ইচ্ছা করে অবনীর।৭টা খুন করে আসার মত অন্যায় করে আসলেও একটা সরি আর আই লাভ ইউ।সর্বোচ্চ বলবে আমি আসলেই তোমাকে ভালবাসি।অনেক অনেক ভালবাসি।এতগুলা বছর ধরে এর চেয়ে বেশি কিছু শোনার কপাল অবনীর হয় নাই।আর এও সে জানে এখন যদি সে খুটিয়ে খুটিয়ে কিছু জানতে চায় তাহলে ইসতিয়াকের অকারন মেজাজ খারাপ হবে।যেমন সে যদি বলে যে তোমার কেন মনে হয় তুমি আমাকে ভালবাস?ইসতিয়াক বলবে তা জানিনা।–কেন জাননা?
তাতো জানিনা।
তাতো জানিনা এইটা কেমন কথা?
জানিনা তো জানিনা।কিন্তু এত প্রশ্ন কইরনা।
কিন্তু ঝামেলাটা অন্যখানে।এইটুক শুনলেই অবনীর মনে হতে থাকে এই ছেলেটা একটা কুটনা আর একটা শয়তান! কিন্তু… এরে ছাড়া সে বাচঁবেনা!কোন কোন ভাবেই না!!
ছাড়ো…তুমি তোমার মন খারাপ নিয়েই পরে থাকো,কাজ নিয়েই পরে থাকো…আমারে কি দরকার!হাউ মাউ করে কাদঁতে থাকে অবনী।আদর পাইলে মেয়ে মানুষের দুঃখু একটু বেশি উতলাইয়া ওঠে এই আরেকটা সমস্যা।
এরপর খুব কমন একটা ব্যাপার হবে…অবনী –তুমি এইটা কেন করছ……ওইটা কি ঠিক ছিল?...............
ইসতিয়াক-……আমি সরি জান…আমি সত্যি তোমাকে অনেক ভালবাসি………।
