অপ্রকাশিত চিঠি-০৯.১১.১০
By- আকিব আরিয়ান
টুনটুনি,
কেমন আছো তুমি?
ভালো আছো তো?
কি করছো এখন?
আজ সারাদিন কি কি করলে?
.
এসব প্রশ্ন এখন আর তোমায় করা হয় না। আমি জানি আজ সারাদিন তুমি কি কি করেছ। কারন আজ তোমার জন্মদিন । কাল আমার জন্মদিন, সারাদিন মন খারাপ ছিল। এত কষ্ট পাও কেন তুমি? তুমি বুঝো না তুমি কষ্ট পেলে আমিও কষ্ট পাই। আমাদের মনের টান যে খুব বেশি, তুমি জানো না? মনে পড়ে কি সেই দিনগুলো? প্রতিদিন রাতে আমরা অপেক্ষা করতাম কখন রাত ৯টা বাজবে। কারন তখন তুমি আমাকে ফোন দিতে। তুমি সবসময় ফাঁক খুঁজতে কখন তোমার মা অন্যকাজে ব্যস্ত। আর তখনই তুমি আমাকে ফোন অথবা মিসডকল দিতে। আমিও অপেক্ষা করতাম কখন তুমি মিসডকল দিবে আর আমি কল ব্যাক করব। তোমার নাম্বারের জন্য আলাদা টোন সেট করেছিলাম যাতে তুমি ফোন দিলে বুঝতে পারি অনেক দূর থেকেই। ঐ টোন বেজে উঠলে তখন ধক করে বুক কেঁপে উঠত। এখনও কেঁপে ওঠে যখন ঐ টোন অন্যকারো মোবাইলে শুনি। পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখি যদিও জানি তোমার কল আসবে না। একটাই বিশ্বাস থাকে যদি এসে যায় তোমার ফোন। জানো আমি এখনও তোমার ফোনের জন্য অপেক্ষা করি। মনে মনে তোমাকে ডাকি যেন তুমি ফোন দাও। আমি জানি তুমি একদিন ফোন দিবে, আমার সাথে কথা বলবে। সেজন্য কখনও ফোন অফ করি না যদি তুমি ফোন দিয়ে না পাও। আমি জানি আমার ফোন অফ থাকলে তুমি কষ্ট পাও, মনে অশান্তির সৃষ্টি হয়। তোমারই জন্য আমি কখনোই আমার নাম্বার পাল্টাব না। যাতে তুমি সবসময় কল করে আমাকে পাও। আমি যদি মরে যাই আমার ছোট বোনের কাছে সিম দিয়ে যাব যেন সে তোমাকে আমার মৃত্যুর খবর জানায়।
.
জানো, আমি প্রায়ই বাইপাসে যাই। ঘাসের উপর বসে থাকি আর মনে ভাসে পুরোনো দিনের স্মৃতি। যখন তুমি আর আমি একসাথে বিকেল বেলা বাইপাসে হাঁটতাম। কোন জিনিসটা সবচেয়ে ভালো লাগত জানো? যখন বাতাসে চুল এনে তোমার মুখে ফেলত, তুমি হাত দিয়ে সরাতে। আর ভালো লাগত তোমার কপালের ছোট্ট টিপ। এসব এখনো আমার চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। ইদানীং রাতের বেলা বাইপাসে আসি পূর্ণিমার চাঁদ দেখার উদ্দেশ্যে কিন্তু দেখি না। চাঁদের দিকে পেছন ফিরে বসি আর তাকিয়ে থাকি সামনের মাঠের দিকে। মনে আছে, একদিন তোমাকে বলেছিলাম ঐ মাঠে গিয়ে দুজনে বসতে কিন্তু তুমি বসনি। আমার খুব ইচ্ছা ছিল তোমাকে পাশে নিয়ে বসতে। এখন শুধু মনে মনে কল্পনা করি দুজন কোন এক জোছনা রাতে ঐ মাঠে বসে চাঁদ দেখছি। তুমি তোমার মাথা আমার ঘাড়ে এলিয়ে দিয়ে আমার কথা শুনছো। আমি এক হাত দিয়ে তোমায় জড়িয়ে ধরেছি আরেক হাত দিয়ে তোমার চুল নাড়ছি। জানো, আমি আর ঐ মাঠে কখনও বসব না তোমাকে ছাড়া। সেদিন তুমি না করেছো বলে এখনও বসি না। আকাশের চাঁদের দিকেও তেমন করে তাকাই না। কারন তোমাকে নিয়ে জোছনা দেখতে চাই তোমাকে ছাড়া নয়।
.
আচ্ছা তোমার কি মনে পড়ে? আমি তোমাকে কল্পনার রাজ্যে নিয়ে যেতাম, অনেক কিছু কল্পনা করাতাম যা আমরা ভবিষ্যতে করব। আসলে সেসব ভবিষ্যতে কখনো করা হবে না। মনে আছে আমার সমুদ্র দেখার কথা? সমুদ্র আমাকে খুব টানে। তোমাকে বলেছিলাম, সমুদ্রে তোমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাব, একসাথে দুজন হাঁটব তীর ঘেঁষে হাতে হাত রেখে। পূর্ণিমা দেখে যাব যেন রাতের বেলা জোছনার আলোতে সমুদ্রস্নান করতে পারি, সিক্ত দুজনে ভেজা বালিতে শুয়ে আকাশের চাঁদ দেখব। তুমি আমার বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকবে।
.
এই তুমি কি নীল শাড়ি কিনেছো? জানি কিনবে না বলেছিলে। তোমাকে নীল শাড়ি গিফট করার খুব ইচ্ছা ছিল কিন্তু তখন টাকা হাতে ছিল না। নীল শাড়ি পরে তুমি শুধু কল্পনায় আসতে কিন্তু আমি বাস্তবে তোমাকে নীল শাড়ি পরা অবস্থায় দেখতে চেয়েছি। তুমি নীল শাড়ি পরে কিছু ছবি তুলে আমাকে পাঠাতে পারবে? আমি তোমাকে দেখব। তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে হয়, ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু জানি এখন তা সম্ভব না। আমাদের সম্পর্ক ছিল বাস্তব ও কল্পনার মাঝামাঝি জগতে । তোমাকে যেসব কল্পনা করতাম মাঝেমধ্যে তা মনে পড়ে। তখন দুচোখে জল আপনাআপনি চলে আসে। ফোটা ফোটা জল গাল গড়িয়ে পড়ে। বুকের ভিতরটা জ্বলে যেমন মরিচের ঝাল লাগলে হয়। মনে হয় তখন বুকের ভিতরটা কেটে বের করে ঠান্ডা পানিতে ধুই। হয়ত বুকের জ্বালা কমবে। মাঝে মাঝে চিত্কার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে কিন্তু কাঁদতে পারি না কেউ শুনে ফেলবে এই ভয়ে, কান্নাও আসে না ।
.
আচ্ছা, আমি তোমাকে এত ভালবাসলাম কেন? তুমিইবা আমাকে এত ভালবাসা দিলে কেন? তুমি আমাকে এত ভালবাসলে কিন্তু কাছে আসতে পারলে না। জানি এতে তোমার দোষ নেই। দোষ সমাজের দোষ বয়সের। আসলে আমিই বোকামি করেছি, তোমার বিয়ের আগে ঠিক সময়মত মনের কথা যদি প্রকাশ করতে পারতাম তবে আজ তুমি আমার হতে, অন্য কারো নয়। তবে জানো, আমার কোন আফসোস নেই কারন তুমি আমাকে ভালবেসেছো এবং আমি জানি তুমি সবচে বেশি আমাকেই ভালবাসো, মিস করো। তুমি স্বীকার করেছিলে, আমার চে বেশি ভালবাসা তুমি কারো কাছ থেকে পাওনি, পাবেও না। আমি তাতেই খুশি। আমার জীবনে কোন লক্ষ্য ছিল না, তবে একটা লক্ষ্য ছিল_ তোমার কল্পনার রাজপুত্র 'তূর্য্য' হওয়া এবং তা আমি হতে পেরেছি। তুমি বলেছ এখন তুমি 'তূর্য্য'র কথা চিন্তা করলে আমার চেহারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। অথচ এর আগে তোমার কাছে 'তূর্য্য'র চেহারা ছিল অস্পষ্ট। এটা আমার জীবনের সবচে বড় পাওনা, তোমার 'তূর্য্য' হতে পেরেছি।
.
টুনটুনি, তোমাকে তো বলেছি সারাজীবন আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাব। তুমি ফিরে আসো কিংবা নাই আসো। আমার কেন জানি মধে হয় তুমি তোমার 'তূর্য্য'কে ফিরে পাবে আর আমি আমার টুনটুনিকে। আগের মত এখনো খুব ইচ্ছে করে তোমাকে আদর করে টুনটুনি বলে ডাকি । জানি ডাকলেও তুমি শুনবে না। তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে, ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে, বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে ইচ্ছে করে। জানি এসব ইচ্ছাগুলো পূরণ হবে না। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বের শেষ ইচ্ছাগুলো আমার এগুলোই। ঠিক এসব কি তোমার ইচ্ছে করে না?
.
তোমার কন্ঠস্বর শুনতে খুব ইচ্ছে করে । শুনলে কেমন যেন মনটা শান্তি পায় । কিন্তু তুমি একবার কথা বলো না। এত অনুরোধ করি তবুও তা হেলায় কিংবা কোন অজানা রাগে পায়ে পিষে নষ্ট করে দেও। এখন তো আর আমাকে 'স্টুপিড' বলে গালি দেও না। তোমার গালি শুনার জন্য ইচ্ছে করে আরও গালি খাওয়ার কাজ করতাম। খুব খুব খুব মিস করি তোমায়।
কি ব্যাপার তোমার চোখে পানি কেন? কাঁদছো কেন এই আমার জন্য। আমি না তোমার সাথে বেঈমানী করেছি, কষ্ট দিয়েছি অনেক। এই কান্নাটা তো ভালবাসারই। একটা অনুরোধ তুমি কেঁদো না। তোমাকে না নিষেধ করেছি কাঁদার জন্য? তোমাকে তো বলেছি তোমার এক ফোটা অশ্রু আমার এক ফোঁটা রক্তের মত। তুমি কেঁদো না। তুমি কি চাও আমার রক্তাক্ত শরীর দেখতে? আরও রক্তক্ষরণ করাতে এই শরীর থেকে।
ভালো থেকো। সুখে থেকো। একাকী কষ্ট করো না। আর কষ্ট পেয় না।
.
___ইতি
তূর্য্য
০৯.১১.১০
.
চিঠিটা ছেলেটা ঠিকই লিখেছিল কিন্তু তা মেয়েটাকে দেয়া হয় নি, এর আগেই সে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল। অপ্রকাশিত চিঠি ডায়েরীর পাতায় আটকে ছিল অনেক অনেক দিন্ন। চিঠিটা লেখার সময় ছেলেতার চোখের পানিতে কাগজ বারবার ভিজে যাচ্ছিলো।
ছেলেটা এরপরে সমুদ্র দেখতে গিয়েছিল বন্ধুর ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হয়ে, সমুদ্র দেখে এসে ছেলেটা তার ডায়েরীতে লিখেছিল,
জানো, তোমায় ছাড়া যখন সমুদ্র দেখতে গিয়েছি, সমুদ্র আমাকে ধিক্কার দিয়েছে তোমাকে সঙ্গে করে আনি নি বলে । পানিতে যখন নেমেছি মনে হয়েছে প্রতিটা ঢেউই তুমি । ছুটে আসছো ধেয়ে আমার বুকে । আমি জড়িয়ে নিয়েছি দুহাত বাড়িয়ে প্রতিটা ঢেউকে তুমি মনে করে ।
সেই বাইপাস আজ পুরোপুরি ব্যস্ত সড়কে বদলে গেছে, ছেলেটার যেতে ইচ্ছে হয় এখানে কিন্তু সময়ের অভাবে যেতে পারে না। ঐ মাঠটা এখন আর নেই, সেখানে স্টেডিয়াম হয়ে গেছে ইট কাঠের ছোঁয়ায়।
সবকিছু বদলে গিয়েছিল এরপর ছেলেটার জীবন, বদলে গেছে সব কিছুই, মেয়েটাও আর আগের মতো নেই।
By- আকিব আরিয়ান
টুনটুনি,
কেমন আছো তুমি?
ভালো আছো তো?
কি করছো এখন?
আজ সারাদিন কি কি করলে?
.
এসব প্রশ্ন এখন আর তোমায় করা হয় না। আমি জানি আজ সারাদিন তুমি কি কি করেছ। কারন আজ তোমার জন্মদিন । কাল আমার জন্মদিন, সারাদিন মন খারাপ ছিল। এত কষ্ট পাও কেন তুমি? তুমি বুঝো না তুমি কষ্ট পেলে আমিও কষ্ট পাই। আমাদের মনের টান যে খুব বেশি, তুমি জানো না? মনে পড়ে কি সেই দিনগুলো? প্রতিদিন রাতে আমরা অপেক্ষা করতাম কখন রাত ৯টা বাজবে। কারন তখন তুমি আমাকে ফোন দিতে। তুমি সবসময় ফাঁক খুঁজতে কখন তোমার মা অন্যকাজে ব্যস্ত। আর তখনই তুমি আমাকে ফোন অথবা মিসডকল দিতে। আমিও অপেক্ষা করতাম কখন তুমি মিসডকল দিবে আর আমি কল ব্যাক করব। তোমার নাম্বারের জন্য আলাদা টোন সেট করেছিলাম যাতে তুমি ফোন দিলে বুঝতে পারি অনেক দূর থেকেই। ঐ টোন বেজে উঠলে তখন ধক করে বুক কেঁপে উঠত। এখনও কেঁপে ওঠে যখন ঐ টোন অন্যকারো মোবাইলে শুনি। পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখি যদিও জানি তোমার কল আসবে না। একটাই বিশ্বাস থাকে যদি এসে যায় তোমার ফোন। জানো আমি এখনও তোমার ফোনের জন্য অপেক্ষা করি। মনে মনে তোমাকে ডাকি যেন তুমি ফোন দাও। আমি জানি তুমি একদিন ফোন দিবে, আমার সাথে কথা বলবে। সেজন্য কখনও ফোন অফ করি না যদি তুমি ফোন দিয়ে না পাও। আমি জানি আমার ফোন অফ থাকলে তুমি কষ্ট পাও, মনে অশান্তির সৃষ্টি হয়। তোমারই জন্য আমি কখনোই আমার নাম্বার পাল্টাব না। যাতে তুমি সবসময় কল করে আমাকে পাও। আমি যদি মরে যাই আমার ছোট বোনের কাছে সিম দিয়ে যাব যেন সে তোমাকে আমার মৃত্যুর খবর জানায়।
.
জানো, আমি প্রায়ই বাইপাসে যাই। ঘাসের উপর বসে থাকি আর মনে ভাসে পুরোনো দিনের স্মৃতি। যখন তুমি আর আমি একসাথে বিকেল বেলা বাইপাসে হাঁটতাম। কোন জিনিসটা সবচেয়ে ভালো লাগত জানো? যখন বাতাসে চুল এনে তোমার মুখে ফেলত, তুমি হাত দিয়ে সরাতে। আর ভালো লাগত তোমার কপালের ছোট্ট টিপ। এসব এখনো আমার চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। ইদানীং রাতের বেলা বাইপাসে আসি পূর্ণিমার চাঁদ দেখার উদ্দেশ্যে কিন্তু দেখি না। চাঁদের দিকে পেছন ফিরে বসি আর তাকিয়ে থাকি সামনের মাঠের দিকে। মনে আছে, একদিন তোমাকে বলেছিলাম ঐ মাঠে গিয়ে দুজনে বসতে কিন্তু তুমি বসনি। আমার খুব ইচ্ছা ছিল তোমাকে পাশে নিয়ে বসতে। এখন শুধু মনে মনে কল্পনা করি দুজন কোন এক জোছনা রাতে ঐ মাঠে বসে চাঁদ দেখছি। তুমি তোমার মাথা আমার ঘাড়ে এলিয়ে দিয়ে আমার কথা শুনছো। আমি এক হাত দিয়ে তোমায় জড়িয়ে ধরেছি আরেক হাত দিয়ে তোমার চুল নাড়ছি। জানো, আমি আর ঐ মাঠে কখনও বসব না তোমাকে ছাড়া। সেদিন তুমি না করেছো বলে এখনও বসি না। আকাশের চাঁদের দিকেও তেমন করে তাকাই না। কারন তোমাকে নিয়ে জোছনা দেখতে চাই তোমাকে ছাড়া নয়।
.
আচ্ছা তোমার কি মনে পড়ে? আমি তোমাকে কল্পনার রাজ্যে নিয়ে যেতাম, অনেক কিছু কল্পনা করাতাম যা আমরা ভবিষ্যতে করব। আসলে সেসব ভবিষ্যতে কখনো করা হবে না। মনে আছে আমার সমুদ্র দেখার কথা? সমুদ্র আমাকে খুব টানে। তোমাকে বলেছিলাম, সমুদ্রে তোমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাব, একসাথে দুজন হাঁটব তীর ঘেঁষে হাতে হাত রেখে। পূর্ণিমা দেখে যাব যেন রাতের বেলা জোছনার আলোতে সমুদ্রস্নান করতে পারি, সিক্ত দুজনে ভেজা বালিতে শুয়ে আকাশের চাঁদ দেখব। তুমি আমার বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকবে।
.
এই তুমি কি নীল শাড়ি কিনেছো? জানি কিনবে না বলেছিলে। তোমাকে নীল শাড়ি গিফট করার খুব ইচ্ছা ছিল কিন্তু তখন টাকা হাতে ছিল না। নীল শাড়ি পরে তুমি শুধু কল্পনায় আসতে কিন্তু আমি বাস্তবে তোমাকে নীল শাড়ি পরা অবস্থায় দেখতে চেয়েছি। তুমি নীল শাড়ি পরে কিছু ছবি তুলে আমাকে পাঠাতে পারবে? আমি তোমাকে দেখব। তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে হয়, ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু জানি এখন তা সম্ভব না। আমাদের সম্পর্ক ছিল বাস্তব ও কল্পনার মাঝামাঝি জগতে । তোমাকে যেসব কল্পনা করতাম মাঝেমধ্যে তা মনে পড়ে। তখন দুচোখে জল আপনাআপনি চলে আসে। ফোটা ফোটা জল গাল গড়িয়ে পড়ে। বুকের ভিতরটা জ্বলে যেমন মরিচের ঝাল লাগলে হয়। মনে হয় তখন বুকের ভিতরটা কেটে বের করে ঠান্ডা পানিতে ধুই। হয়ত বুকের জ্বালা কমবে। মাঝে মাঝে চিত্কার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে কিন্তু কাঁদতে পারি না কেউ শুনে ফেলবে এই ভয়ে, কান্নাও আসে না ।
.
আচ্ছা, আমি তোমাকে এত ভালবাসলাম কেন? তুমিইবা আমাকে এত ভালবাসা দিলে কেন? তুমি আমাকে এত ভালবাসলে কিন্তু কাছে আসতে পারলে না। জানি এতে তোমার দোষ নেই। দোষ সমাজের দোষ বয়সের। আসলে আমিই বোকামি করেছি, তোমার বিয়ের আগে ঠিক সময়মত মনের কথা যদি প্রকাশ করতে পারতাম তবে আজ তুমি আমার হতে, অন্য কারো নয়। তবে জানো, আমার কোন আফসোস নেই কারন তুমি আমাকে ভালবেসেছো এবং আমি জানি তুমি সবচে বেশি আমাকেই ভালবাসো, মিস করো। তুমি স্বীকার করেছিলে, আমার চে বেশি ভালবাসা তুমি কারো কাছ থেকে পাওনি, পাবেও না। আমি তাতেই খুশি। আমার জীবনে কোন লক্ষ্য ছিল না, তবে একটা লক্ষ্য ছিল_ তোমার কল্পনার রাজপুত্র 'তূর্য্য' হওয়া এবং তা আমি হতে পেরেছি। তুমি বলেছ এখন তুমি 'তূর্য্য'র কথা চিন্তা করলে আমার চেহারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। অথচ এর আগে তোমার কাছে 'তূর্য্য'র চেহারা ছিল অস্পষ্ট। এটা আমার জীবনের সবচে বড় পাওনা, তোমার 'তূর্য্য' হতে পেরেছি।
.
টুনটুনি, তোমাকে তো বলেছি সারাজীবন আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাব। তুমি ফিরে আসো কিংবা নাই আসো। আমার কেন জানি মধে হয় তুমি তোমার 'তূর্য্য'কে ফিরে পাবে আর আমি আমার টুনটুনিকে। আগের মত এখনো খুব ইচ্ছে করে তোমাকে আদর করে টুনটুনি বলে ডাকি । জানি ডাকলেও তুমি শুনবে না। তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে, ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে, বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে ইচ্ছে করে। জানি এসব ইচ্ছাগুলো পূরণ হবে না। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বের শেষ ইচ্ছাগুলো আমার এগুলোই। ঠিক এসব কি তোমার ইচ্ছে করে না?
.
তোমার কন্ঠস্বর শুনতে খুব ইচ্ছে করে । শুনলে কেমন যেন মনটা শান্তি পায় । কিন্তু তুমি একবার কথা বলো না। এত অনুরোধ করি তবুও তা হেলায় কিংবা কোন অজানা রাগে পায়ে পিষে নষ্ট করে দেও। এখন তো আর আমাকে 'স্টুপিড' বলে গালি দেও না। তোমার গালি শুনার জন্য ইচ্ছে করে আরও গালি খাওয়ার কাজ করতাম। খুব খুব খুব মিস করি তোমায়।
কি ব্যাপার তোমার চোখে পানি কেন? কাঁদছো কেন এই আমার জন্য। আমি না তোমার সাথে বেঈমানী করেছি, কষ্ট দিয়েছি অনেক। এই কান্নাটা তো ভালবাসারই। একটা অনুরোধ তুমি কেঁদো না। তোমাকে না নিষেধ করেছি কাঁদার জন্য? তোমাকে তো বলেছি তোমার এক ফোটা অশ্রু আমার এক ফোঁটা রক্তের মত। তুমি কেঁদো না। তুমি কি চাও আমার রক্তাক্ত শরীর দেখতে? আরও রক্তক্ষরণ করাতে এই শরীর থেকে।
ভালো থেকো। সুখে থেকো। একাকী কষ্ট করো না। আর কষ্ট পেয় না।
.
___ইতি
তূর্য্য
০৯.১১.১০
.
চিঠিটা ছেলেটা ঠিকই লিখেছিল কিন্তু তা মেয়েটাকে দেয়া হয় নি, এর আগেই সে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল। অপ্রকাশিত চিঠি ডায়েরীর পাতায় আটকে ছিল অনেক অনেক দিন্ন। চিঠিটা লেখার সময় ছেলেতার চোখের পানিতে কাগজ বারবার ভিজে যাচ্ছিলো।
ছেলেটা এরপরে সমুদ্র দেখতে গিয়েছিল বন্ধুর ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হয়ে, সমুদ্র দেখে এসে ছেলেটা তার ডায়েরীতে লিখেছিল,
জানো, তোমায় ছাড়া যখন সমুদ্র দেখতে গিয়েছি, সমুদ্র আমাকে ধিক্কার দিয়েছে তোমাকে সঙ্গে করে আনি নি বলে । পানিতে যখন নেমেছি মনে হয়েছে প্রতিটা ঢেউই তুমি । ছুটে আসছো ধেয়ে আমার বুকে । আমি জড়িয়ে নিয়েছি দুহাত বাড়িয়ে প্রতিটা ঢেউকে তুমি মনে করে ।
সেই বাইপাস আজ পুরোপুরি ব্যস্ত সড়কে বদলে গেছে, ছেলেটার যেতে ইচ্ছে হয় এখানে কিন্তু সময়ের অভাবে যেতে পারে না। ঐ মাঠটা এখন আর নেই, সেখানে স্টেডিয়াম হয়ে গেছে ইট কাঠের ছোঁয়ায়।
সবকিছু বদলে গিয়েছিল এরপর ছেলেটার জীবন, বদলে গেছে সব কিছুই, মেয়েটাও আর আগের মতো নেই।

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন