দোকানে গিয়া যখন দোকানীরে কইলাম,'' ভ্রাতঃ,রোবোট আছে??
''.....ব্যাটা হা কৈরা কিছুক্ষন তাকায় থাকলো , মনে হয় ভাবছে যে আমি হোন্ডা
আসিমো রোবোট কিনতে ডিভিডির দোকানে গেছি
তয়,চালু লোক,ডান গালের চালিয়াৎ মার্কা হাসি বাম গালে চালান দিয়া কইল,
''আছে, তয় হল-প্রিন্ট ! '' ।। চারিদিকে এত্ত এত্ত রোবোট রোবোট ধ্বনি
উঠছে,ভাবলাম না নিয়া যাওয়াই ভুল হইব
।

বাসায় ফির্যা শুরু কর্লাম রোবোট দেখা।
কাহিনী হৈল এই .....২০১০ সাল, বিশিষ্ট বুইড়া কাম নওজোয়ান বিজ্ঞানী ড.বাসিকরন ( রজনীকান্ত) ধুমায়া রোবোটিক্সের উপ্রে ১০ বছর খাইট্টা খুইট্টা একখান মাল পয়দা করছেন..... তিনি এই বিশিস্ট রোবোট তৈয়ার করতে তার চুল দাড়ির দিকে তেমন নজর দিতে পারেন নাই ( কিন্তু তারপরও তার রিবন্ডিং করা চুলের পাশাপাশি রিবন্ডিং (!)করা বড় দাড়ি দেখলে ওসামা/ফারুকী তো দুরের কথা,মাইয়ারাও লজ্জা পাইবো
) !! তিনি এতই ব্যস্ত থাকেন গবেষনা লৈয়া, যে তার মেডিক্যাল পড়ুয়া বান্ধুবী
সানা ( ঐশ্বরিয়া) রে টাইম দিতে পারেন না !! ( ব্যাফুক আফসুসের ইমো হৈবে
) তাই ম্যাডাম খালি ক্ষেপিয়া দিন গুজরান করেন .. আর শক্তপ্রহরা বিশিষ্ট গোপন গবেষনাগারে যখনতখন ঢুইকা পড়েন( যেন নিজের বেডরুম। )
তো উনি একখান মহা-বট বানাইছেন..... কামেল রোবোট এমন এক জিনিস, পয়দা হৈয়াই শুরু করলো ধুন্দুমার নাচা-গানা !! ( ১০ বছরের সাধনার এই আউট পুট!! ) ।রোবোট সাহেবের পরিচয় জিজ্ঞেস করলে একখান ভাঙা রেকর্ডের মত বাজতেই থাকে ,'' আই অ্যাম রোবো....সিপিইউ ১ টেরা হার্টজ,মেমোরি ১ জেটা বাইট !! '' ( হালার্পো , প্রসেসর আর মেমোরি দিয়া খালি বিচার করলে আমার কম্পুরে আপগ্রেড কৈরা ফালাইলেই তো হয়.....১০ বছর সাধনা ঔষধালয়ে থাকন লাগে??
)
কামেল রোবটের সন্দর্প-কান্তি মার্কা চেহারা দেইখা বিজ্ঞানীর মা তার নামকরন করলেন ''চিট্টি''।
রোবোট সাব এমন মেমোরির অধিকারি আর তার দৃষ্টিশক্তি এমন প্রখর ( চাচাচৌধুরীর কথা মনে পৈরা গেলো
) .....উনি বই খুলেন না, বই বাইরে থিকা স্ক্যান কৈরাই ভিতরে কি আছে তা
বুইঝা মেমরিতে স্টোর করেন !! (বাহ বাহ !! বইগুলা কেন যে তার দৃষ্টিতে পুইড়া
ছারখাড় হয়না,বুঝলাম না।) খাবার দাবার বানাইতে ওস্তাদ,সকল কাঝের পাঝিও বটে।
তো উনার কাজকাম দেইখা আহ্লাদী নায়িকা আবদার ধরিলেন ,এই খিলোনা তাহার বহুৎ
জরুরত হ্যায় !! নায়ক কৈলেন,''কেন?? ''.....নায়িকা কৈলেন,তার মেডিক্যাল
পরিক্ষা সামনে,তাই প্রাকটিস করার লাইগ্যা এমন মেমরি দরকার ( কি আজব....১০
বছরের সাধনা ঔষধালয় এককথাতেই আরেকজনের হাতে তুইল্যা দিলেন!! এই না হইলে শেষ
বয়সের প্রেম !!
)
নায়িকা আবার বড়ই দিলদরিয়া !!উনি যুদ্ধে নিহত সেনাদের বৌ-বেডিদের জন্য একখান আশ্রম টাইপ খুলছেন.....ঐখানে আবার বুড়ি-ধাড়ি ফ্যাশনের পাশাপাশি হাল-জামানার ছোট্ট পোশাকের ফ্যাশন বহুল প্রচারিত। নায়িকার পোশাকও ,তাইতো বলি.....বাজারে বাচ্চাদের ড্রেস কেন পাওয়া যায়না !!
....! যাউগ্গা, উনি পড়ালেখা করতাছেন, ফাইনাল ইয়ারে মেডিক্যাল পড়া মাইয়া
যদি ফার্স্ট ইয়ারের প্রশ্ন মুখস্থ করতে থাকে,তাইলে কিছুই বলার নাই !! উনার
উন্মুক্ত পোশাক প্রদর্শনী দেখিয়া ইভ টিজার কিছু দুষ্টবালক টিজ করতে থাকলে
নায়িকা রোবোটের শরনাপন্ন হন।
এইখানে আইসা তাজ্জব হৈলাম !! রোবোট বাবা দেখি অপরিসীম শক্তির আধার !! যাবতীয় লৌহদন্ড উনি চুম্বক দিয়া ক্যাপচার কৈরা ফালান .....তবে অন্ডকোষের দিকে তার কিন্চিৎ ঝোক লক্ষ্য কইরা তেমন একটা আশ্চর্য হইনাই ( যার যেটা প্রয়োজন
) .....উনি খালি অন্ডকোষে মারতে কেন জানি বিশেষ আনন্দ পান । এর মাঝে
নায়িকা ট্রেন ভ্রমনে বাইর হৈলে ঐসব দুষ্টবালকেরা লৌহদন্ড বাদেই আক্রমন
চালায়.... মাইরপিট করতে করতে রোবোট মশাই খেয়াল করলেন,চার্জ শেষ !! ( অনিকের
ব্যাটারী নিলে কি আর এই দশা হয় ??
) শেষ মুহুর্তে তাকে ট্রেন হৈতে ছুইড়া ফালানোর আগমুহূর্ত পর্যন্ত রোবোট
আবারো আরেক ভিলেনের অন্ডকোষ চাইপ্যা ছিলেন !!! (কিছুই বলার নাই....যার
যেটার অভাব
) !! ওরে সর্বনাশ!!!!! চার্জ ছাড়া রোবোটরে ট্রেনের বাইরে ফালায়া মোটামুটি
৭০-৮০ জন লাইন দিয়া দাড়াইয়া আছে( মোটামুটি একটা রেপ সীনের মত
হুট কৈরা দেখি আমর স্ক্রীনে দুইটা ভুতের ছায়া !!
ভাবলাম কে আমার পিছে!! পরে বুঝলাম,হল-প্রিন্ট,অ্যাশের প্রায় রেপ সীন দেখবো,এই উত্তেজনায় হলের ভিতর দুইজন দাড়ায়া গেছে
)
কেমনে কি !! ঐ চার্জ ছাড়া রোবোট মশাই কৈথিকা চার্জ পাইয়া ২০০কিমি/ঘন্টা বেগে ট্রেনের পিছনে ছুইটা আইসা সবগুলারে দিলেন ধোলাই ( নায়িকার চিৎকারে চার্জ হৈছে !! কি টেকনিক মওলা !! ).....তারপর,অ্যাজ ইউজুয়াল.....রোবোটের সাথে নায়িকার নেত্য !!
এর মাঝে দেখা গেলো,নায়িকার পড়া শেষ হয়নাই,উনি রোবোটকে বললেন,তাকে যেনো ''মুন্না ভাই'' ইস্টাইলে নকলে হেল্প করা হয় !! ( চোর-চোট্টায় দেশটা ভৈরা গেছে.... সারাদিন নায়কের লগে পিরিতে বিজি থাকলে কি আর পাশ হয়?? বিজি প্রেসের কারো সাথে কন্টাক্ট কৈরা মেডিক্যালে ভর্তি হইছিল মনে হয় -এই স্বিদ্ধান্তে আইসা বাকি ফিলিম দেখায় মনোযোগ দিলাম ।
বিজ্ঞানি আছেন,তাইলে তার একটা শত্রু খারাপ বিজ্ঞানী থাকা লাগে .....সেই অভাব পূরনে আগায়া আসলেন ড. বোরা ( ড্যানী ) ।বিজ্ঞানী রজনী ঠিক করছিলেন এখন থিকা এই রোবোট বাইরে রপ্তানী কৈরা ভারতমাতাকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থা কৈরা দিবেন ( এখন যত মানুষ আছে,আগে ঐগুলার রপ্তানীর চিন্তা করসনাই বৈলাই আজ তুই বিজ্ঞানী-ব্যাডা বেকুব! )।কিন্তু ড্যানী ভাইয়া বললেন যে রোবোট মিয়া মানুষ ঠ্যাঙাইছে,তাই তার মাঝে মানবিকতা নাই ,সুতরাং রোবোট প্রজেক্ট বাতিল !!.......তো মানবিকতা দেখানের চান্স আশেপাশেই মনে হয় ঘুরঘুর করতাছিল !!
কারন,রোবোটরে নিয়া বাইর হবার সাথে সাথেই রাস্তার এক বস্তিতে আগুন লাগলো !! ( আহা !! কি সুন্দর সাজানো কাকতাল
) রোবোট মিয়া উদ্ধার কাজ চালাইতাছেন আর বিজ্ঞানীমশাই গোফে তা দিয়া তা
ড্যানী ভাইয়ারে দেখাইতাছেন!! এর মাঝেই ঘটলো ফিলিমের অন্যতম আজব ঘটনা!! নগ্ন
একটা মাইয়ারে আগুন থিকা উদ্ধার করার কারনে সবাই খুব খেপলো রোবোটের উপ্রে!!
মাইয়াও করলো আত্মহত্যা!!!রোবোটের প্রজেক্ট আবার বাতিল.....এই রোবোট দিয়া
মানবিকতা সম্ভব না....ইত্যাদি ইত্যাদি( হালার উদ্ধারের টাইমে কি আর আগুন
লাগা ঘরে কেউ কাপড় খুঁজে?? মানুষ উদ্ধার আগে.....কাপড়চোপড় পরা কিনা,তা
পরের ব্যাপার ....কিন্তু এই '' হামারী ইজ্জত কা সওয়াল!! কি কমু )
তো এরমাঝে বুইড়া হাড়ে গোটা কয়েক গানে নেত্য প্রদর্শন কইরা রজনীবাবু হাপাইতাছেন !! রোবোটের ভিতরে মানবিকতা ঢুকাইতে গিয়া দেখা গেলো,উনি রোবোটে হরমোনাল সিমুলেশন টেস্ট অ্যাপ্লাই করতাছেন !! ( কল লিমিট থাকে,কিন্তু বেকুবির একটা লিমিট থাকা দরকার
) ....মানবিকগুন এতই বাড়ছে,যে উনি চান্সে একটা সিজারিয়ান ডেলিভারীও কৈরা
বসলেন ,......তাও কিনা আবার এমনভাবে বাচ্চা বাইর হওয়ার কাউন্টডাউন
করতাছিলেন,যে কেউ ভাবতে পারে যে বোমা বাইর হইতাছে !!
এখন উনার রোবোট মানবিক গুন সম্পন্ন হইছে , তার বান্ধুবী ফেলটুস বুড়ি ছাত্রীরে তার মনেও ধরছে .....এমনই প্রেম জাইগ্যা উঠছে,যে দেখা গেলো মশাদের ডাকাডাকি কৈরা ধমকাইতাছেন,কোন মশা তার ''সানা''রে কামড় দিছে.......ঐ বেয়াক্কেল আকালমন্দ মশারে দিয়া ''সরি'' বলাইলেন,আর জীবনে কামড়াইবোনা....এমন মুচলেকাও নিয়া নিলেন !!
তার উপর মনের জ্বালা মিটাইতে না পাইরা প্রেম নিবেদন কৈরা বসলেন !!! নায়িকা
বললেন এইডা পসিবল না......মেশিনের লগে বিয়া !! রোবোট বাবাজি আবার দেখি চরম
স্মার্ট!! নায়িকার কথা শুইনাই ইঙিত বুইঝা নিছে...আবার সেই সাথে সেক্স নিয়া
বয়ান মারা শুরুও করছে !!! আর কাহাঁতক সহ্য হয়!! রজনীবাবু রোবোটরে ধইরা
আচ্ছামত মাইর দিয়া পার্টস সব আলাদা কইরা দিলেন,আর ময়লার ডিপোতে ফালায়া
আসলেন (যুগে যুগে প্রেমিকদের এই হাল হয়
)
ড্যানিমশাই বইসা ছিলেন এই আশাতেই , ময়লার ডিপো থিকা তুইলা আনলেন...আর ''রোবিটেল'' এর সিমকার্ডের মত লাল একটা সিমকার্ড ভিতরে ভইরা দিয়া রোবোটরে আবার জাগরন করাইলেন!! এই রোবোট এখন নাকি আতংকবাদী হিসাবে কাজ করবো!
আতংকবাদী হৈছে,কিন্তু খারাপ হৈয়া গেলেও তার প্রেমভালোবাসা অটুট !! তাই সে আবার বিয়ার মন্ডপ থিকা অ্যাশরে তুইল্যা আনলো ,আর বাধাদানকারী ড্যানীমশাই সহ আরো প্লাটুনখানেক সৈন্য নিহত হৈলো !!
এখন বিয়ার পালা !! রোবোট বাবাজি অ্যাশরে ভরসা দিলো,''তুমি ট্যান্ছন লইয়োনা
আমি সব পার্টস ঠিক কৈরা ফালাইছি !! আমার আর পুরুষের মাঝে আর ঐ পার্থক্য নাই !! 
'' কথা শুইনা অ্যাশ এর চেহারা হৈলো দেখার মত
মানুষ না মেশিন !!
রোবোট আবার একগাল হাসি দিয়া কয়,''রোবো স্যাপিয়েন্স এর জন্ম দিবো উনারা দুইজনে '' !!!! ( রোবোটের মাঝেও লুলামী !!)
এখন রজনীমশাইর তো মাথায় যেই কয়টা চুল আছে,তা ছিড়া আর কিছুই রাখেনাই !! উনি বুদ্ধি আটঁলেন,রোবোট সাইজা রোবোটের আস্তানায় ঢুকবেন,তারপর চার্জ শেষ হইলে ঠুস!!!
( বুইড়া মাথার জড়বুদ্ধি ) তো কাজকাম প্রায় গুছায়া আনছেন,রোবোট ব্যাটা এমনই
বলদ যে কোনটা মানুষ আর কোনটা মেশিন তা ঠিক কইরা আইডেন্টিফাই করতে তার পুরা
রাইত কাইট্টা গেছে!! ( জিন্জিরা মেড প্রসেসর -এইটা বুঝলাম )মাথা ঠান্ডা
করতে উনি নায়িকারে লইয়া আরেকখানা নেত্য দিয়া লইলেন
( যাই হোক, রক্তমাংসের রোবোট বইল্যা কথা !!
)
.....নায়কের প্ল্যান সফল,নেত্য কইরা চার্জও শেষ ,সারা শহরে কারেন্টও অফ,কিন্তু রোবোট বাবা একখানা গাড়ির ব্যাটারী দিয়া আবার ফুল চার্জ হৈলেন !! তারপর শহরময় তান্ডব চালায়া একবার বিশালাকার অনু-পরমানুর রুপ নেন, পরক্ষনেই আবার ড্রিল মেশিনের রুপ,পরক্ষনেই ট্রান্সফর্মারের রুপ !!(নায়িকা হারাইলে কি মাথার ঠিক থাকে ??
) নায়ক বাবাজি হেলিপ্টার থিকা বৈসা আয়েস কৈরা কি একটা ডিম্যাগনেটাইজ ইন্জেকশন মারলেন,আর এতক্ষনে রোবোট বাবাজীর জারিজুরি শেষ !!
( এতক্ষন এই মহৌষধ লুকায়া কি করতাছিলেন,তা খোদায় জানে
)
সব কাহিনী শেষ....রোবোট এখন ভালো মানুষ,সব দোষ স্বীকার কইরা মরার প্রস্তুতি নিতাছেন,তার করুন পরিনতি দেইখা ২ মাসের শিশুও কান্দন শুরু করছে, আমর কম্পুও দেখি কেমন জানি উটকি উটকি মারতাছে ( দুঃখেই মনে হয় !!
) মরার আগে রোবোট বাবা দেখি একটা জোক্সও শুনাইলো, তাতে বাচ্চাটা আরো জোরে কাইন্দা উঠলো !!
আমারো ছবি দেখা শেষ হইলো !!
বি.দ্র. যেই কথা না কৈলেই না...... এই রোবোটের কাজ-কাম দেখলে জাপানী বৈজ্ঞানিকরা লাইন ধইরা হারিকিরি করবো ..... দুনিয়ার কেউ ঠেকাইতে পারবোনা !!
পুরাপুরি রম্য লেখা ...... পছন্দ না হইলে মাইনাস দিতেই পারবেন.....রক্তমাংসের রোবোট বইল্যা কথা !!
রজনী ভালাই.....তয় বুইড়া যত ভালা হইতে,পারে,এই আর কি!! আর অ্যশের ছ্যাবলামী আর সহ্য হয়না !! এই ফিলিম যদি রেকর্ড করে,তাইলে, আমাগো মান্না ভাইয়ের মেশিনম্যান ফিলিম টা অস্কার পাওন উচিত !!

বাসায় ফির্যা শুরু কর্লাম রোবোট দেখা।
কাহিনী হৈল এই .....২০১০ সাল, বিশিষ্ট বুইড়া কাম নওজোয়ান বিজ্ঞানী ড.বাসিকরন ( রজনীকান্ত) ধুমায়া রোবোটিক্সের উপ্রে ১০ বছর খাইট্টা খুইট্টা একখান মাল পয়দা করছেন..... তিনি এই বিশিস্ট রোবোট তৈয়ার করতে তার চুল দাড়ির দিকে তেমন নজর দিতে পারেন নাই ( কিন্তু তারপরও তার রিবন্ডিং করা চুলের পাশাপাশি রিবন্ডিং (!)করা বড় দাড়ি দেখলে ওসামা/ফারুকী তো দুরের কথা,মাইয়ারাও লজ্জা পাইবো
তো উনি একখান মহা-বট বানাইছেন..... কামেল রোবোট এমন এক জিনিস, পয়দা হৈয়াই শুরু করলো ধুন্দুমার নাচা-গানা !! ( ১০ বছরের সাধনার এই আউট পুট!! ) ।রোবোট সাহেবের পরিচয় জিজ্ঞেস করলে একখান ভাঙা রেকর্ডের মত বাজতেই থাকে ,'' আই অ্যাম রোবো....সিপিইউ ১ টেরা হার্টজ,মেমোরি ১ জেটা বাইট !! '' ( হালার্পো , প্রসেসর আর মেমোরি দিয়া খালি বিচার করলে আমার কম্পুরে আপগ্রেড কৈরা ফালাইলেই তো হয়.....১০ বছর সাধনা ঔষধালয়ে থাকন লাগে??
কামেল রোবটের সন্দর্প-কান্তি মার্কা চেহারা দেইখা বিজ্ঞানীর মা তার নামকরন করলেন ''চিট্টি''।
রোবোট সাব এমন মেমোরির অধিকারি আর তার দৃষ্টিশক্তি এমন প্রখর ( চাচাচৌধুরীর কথা মনে পৈরা গেলো
নায়িকা আবার বড়ই দিলদরিয়া !!উনি যুদ্ধে নিহত সেনাদের বৌ-বেডিদের জন্য একখান আশ্রম টাইপ খুলছেন.....ঐখানে আবার বুড়ি-ধাড়ি ফ্যাশনের পাশাপাশি হাল-জামানার ছোট্ট পোশাকের ফ্যাশন বহুল প্রচারিত। নায়িকার পোশাকও ,তাইতো বলি.....বাজারে বাচ্চাদের ড্রেস কেন পাওয়া যায়না !!
এইখানে আইসা তাজ্জব হৈলাম !! রোবোট বাবা দেখি অপরিসীম শক্তির আধার !! যাবতীয় লৌহদন্ড উনি চুম্বক দিয়া ক্যাপচার কৈরা ফালান .....তবে অন্ডকোষের দিকে তার কিন্চিৎ ঝোক লক্ষ্য কইরা তেমন একটা আশ্চর্য হইনাই ( যার যেটা প্রয়োজন
কেমনে কি !! ঐ চার্জ ছাড়া রোবোট মশাই কৈথিকা চার্জ পাইয়া ২০০কিমি/ঘন্টা বেগে ট্রেনের পিছনে ছুইটা আইসা সবগুলারে দিলেন ধোলাই ( নায়িকার চিৎকারে চার্জ হৈছে !! কি টেকনিক মওলা !! ).....তারপর,অ্যাজ ইউজুয়াল.....রোবোটের সাথে নায়িকার নেত্য !!
এর মাঝে দেখা গেলো,নায়িকার পড়া শেষ হয়নাই,উনি রোবোটকে বললেন,তাকে যেনো ''মুন্না ভাই'' ইস্টাইলে নকলে হেল্প করা হয় !! ( চোর-চোট্টায় দেশটা ভৈরা গেছে.... সারাদিন নায়কের লগে পিরিতে বিজি থাকলে কি আর পাশ হয়?? বিজি প্রেসের কারো সাথে কন্টাক্ট কৈরা মেডিক্যালে ভর্তি হইছিল মনে হয় -এই স্বিদ্ধান্তে আইসা বাকি ফিলিম দেখায় মনোযোগ দিলাম ।
বিজ্ঞানি আছেন,তাইলে তার একটা শত্রু খারাপ বিজ্ঞানী থাকা লাগে .....সেই অভাব পূরনে আগায়া আসলেন ড. বোরা ( ড্যানী ) ।বিজ্ঞানী রজনী ঠিক করছিলেন এখন থিকা এই রোবোট বাইরে রপ্তানী কৈরা ভারতমাতাকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থা কৈরা দিবেন ( এখন যত মানুষ আছে,আগে ঐগুলার রপ্তানীর চিন্তা করসনাই বৈলাই আজ তুই বিজ্ঞানী-ব্যাডা বেকুব! )।কিন্তু ড্যানী ভাইয়া বললেন যে রোবোট মিয়া মানুষ ঠ্যাঙাইছে,তাই তার মাঝে মানবিকতা নাই ,সুতরাং রোবোট প্রজেক্ট বাতিল !!.......তো মানবিকতা দেখানের চান্স আশেপাশেই মনে হয় ঘুরঘুর করতাছিল !!
তো এরমাঝে বুইড়া হাড়ে গোটা কয়েক গানে নেত্য প্রদর্শন কইরা রজনীবাবু হাপাইতাছেন !! রোবোটের ভিতরে মানবিকতা ঢুকাইতে গিয়া দেখা গেলো,উনি রোবোটে হরমোনাল সিমুলেশন টেস্ট অ্যাপ্লাই করতাছেন !! ( কল লিমিট থাকে,কিন্তু বেকুবির একটা লিমিট থাকা দরকার
এখন উনার রোবোট মানবিক গুন সম্পন্ন হইছে , তার বান্ধুবী ফেলটুস বুড়ি ছাত্রীরে তার মনেও ধরছে .....এমনই প্রেম জাইগ্যা উঠছে,যে দেখা গেলো মশাদের ডাকাডাকি কৈরা ধমকাইতাছেন,কোন মশা তার ''সানা''রে কামড় দিছে.......ঐ বেয়াক্কেল আকালমন্দ মশারে দিয়া ''সরি'' বলাইলেন,আর জীবনে কামড়াইবোনা....এমন মুচলেকাও নিয়া নিলেন !!
ড্যানিমশাই বইসা ছিলেন এই আশাতেই , ময়লার ডিপো থিকা তুইলা আনলেন...আর ''রোবিটেল'' এর সিমকার্ডের মত লাল একটা সিমকার্ড ভিতরে ভইরা দিয়া রোবোটরে আবার জাগরন করাইলেন!! এই রোবোট এখন নাকি আতংকবাদী হিসাবে কাজ করবো!
আতংকবাদী হৈছে,কিন্তু খারাপ হৈয়া গেলেও তার প্রেমভালোবাসা অটুট !! তাই সে আবার বিয়ার মন্ডপ থিকা অ্যাশরে তুইল্যা আনলো ,আর বাধাদানকারী ড্যানীমশাই সহ আরো প্লাটুনখানেক সৈন্য নিহত হৈলো !!
এখন বিয়ার পালা !! রোবোট বাবাজি অ্যাশরে ভরসা দিলো,''তুমি ট্যান্ছন লইয়োনা
এখন রজনীমশাইর তো মাথায় যেই কয়টা চুল আছে,তা ছিড়া আর কিছুই রাখেনাই !! উনি বুদ্ধি আটঁলেন,রোবোট সাইজা রোবোটের আস্তানায় ঢুকবেন,তারপর চার্জ শেষ হইলে ঠুস!!!
.....নায়কের প্ল্যান সফল,নেত্য কইরা চার্জও শেষ ,সারা শহরে কারেন্টও অফ,কিন্তু রোবোট বাবা একখানা গাড়ির ব্যাটারী দিয়া আবার ফুল চার্জ হৈলেন !! তারপর শহরময় তান্ডব চালায়া একবার বিশালাকার অনু-পরমানুর রুপ নেন, পরক্ষনেই আবার ড্রিল মেশিনের রুপ,পরক্ষনেই ট্রান্সফর্মারের রুপ !!(নায়িকা হারাইলে কি মাথার ঠিক থাকে ??
সব কাহিনী শেষ....রোবোট এখন ভালো মানুষ,সব দোষ স্বীকার কইরা মরার প্রস্তুতি নিতাছেন,তার করুন পরিনতি দেইখা ২ মাসের শিশুও কান্দন শুরু করছে, আমর কম্পুও দেখি কেমন জানি উটকি উটকি মারতাছে ( দুঃখেই মনে হয় !!
বি.দ্র. যেই কথা না কৈলেই না...... এই রোবোটের কাজ-কাম দেখলে জাপানী বৈজ্ঞানিকরা লাইন ধইরা হারিকিরি করবো ..... দুনিয়ার কেউ ঠেকাইতে পারবোনা !!
পুরাপুরি রম্য লেখা ...... পছন্দ না হইলে মাইনাস দিতেই পারবেন.....রক্তমাংসের রোবোট বইল্যা কথা !!
রজনী ভালাই.....তয় বুইড়া যত ভালা হইতে,পারে,এই আর কি!! আর অ্যশের ছ্যাবলামী আর সহ্য হয়না !! এই ফিলিম যদি রেকর্ড করে,তাইলে, আমাগো মান্না ভাইয়ের মেশিনম্যান ফিলিম টা অস্কার পাওন উচিত !!
লিখছে আমাগো দুর্যোধন দা
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন