বাইশে আগস্ট,
মেয়েটাকে আজ আবারো পাশের ছাদে দেখলাম।পাশের দোতলা বাড়িটায় নতুন এসেছে মনে হয়।সন্ধ্যার একটু আগেই চলে গেল।কেমন যেন মায়া আছে মেয়েটার মুখটায়।
উনত্রিশে আগস্ট,
মেয়েটার বোধহয় বৃষ্টি খুব পছন্দ।সব মেয়েদেরই পছন্দ তবে ওর বৃষ্টি ভেজা দেখে যে কারও ভিজতে ইচ্ছে করবে।বারান্দা ছেড়ে যেতেই ইচ্ছে করছেনা এখন।বৃষ্টির রিমঝিম সুর আর সাথে মেয়েটার চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ যেন এক মোহের জাল সৃষ্টি করেছে।আর আমি সেই জালে আবিষ্ট হয়ে আছি যেন সহস্র বছর ধরে।
বারোই সেপ্টেম্বর,
অনেকদিন পর মেয়েটাকে আবারো দেখলাম।তবে সম্পূর্ণ অন্য রূপে,নীল শাড়িতে।সব মেয়েদেরকেই কি শাড়িতে এত সুন্দর লাগে,নাকি শুধু এই মেয়েটাকেই এত অপূর্ব লাগছে?মেয়েটার কপালে একটা নীল টিপ পরিয়ে দেয়ার অযৌক্তিক ইচ্ছে মনের কোণে বাসা বেঁধে আছে,কিন্তু কেনও তা জানিনা।ওর মেঘের মত লম্বা কালো চুল এতদিন চোখেই পড়েনি আমার,আশ্চর্য তো!!ওগো নীলপরী,লিওনার্দো ডি ভিঞ্চি যদি তোমায় আজ দেখতে পেত তবে মোনালিসাকে ভুলে তোমায় আঁকতো।
ছাব্বিশে সেপ্টেম্বর,
মেয়েটার মন কেনও খারাপ খুব জানতে ইচ্ছে করছে।ছাদে একলা বসে খুব কাদছে।কি ভাবছে কেউ দেখছেনা ওকে?আমিতো দেখছি কিন্তু কিছু করতে পারছিনা।চোখের জলে ভেজা কাজল লেপটে গেছে স্নিগ্ধ মায়াময়ী মুখটায়,সেও যে কি অদ্ভুত সুন্দর তা বোঝানোর ভাষা বোধহয় কোনও কবিরও জানা নেই।
তিন অক্টোবর,
আমি জানি মেয়েটা আজও আসবে ছাদে।যদিও এখন বেশ রাত।কিন্তু যে মেয়ের বৃষ্টি ভাল লাগে তার নিশ্চয়ই জোছনাও ভাল লাগবে।চিনতে আমার একটুও ভুল হইনি,মেয়েটা ঠিকই জোছনার অভিমান ভাঙ্গাতে ছাদে এসেছে,একমনে চাঁদটাকে দেখছে,আর আমি দেখছি জোছনায় ভেজা মেয়েটাকে।আমার কানে বাজছে সেই গানের সুর-
চাঁদের হাসির বাধ ভেঙ্গেছে,উছলে পরে আলো
ও রজনীগন্ধা,তোমার গন্ধসুধা ঢালো...।।
পনেরো অক্টোবর
এই মেয়ে তুমি কি জানো তোমায় নিয়ে আজকাল কত কবিতা লিখে যাই আমি,খুব ইচ্ছে করছে তোমায় পাশে বসিয়ে শোনাই এক এক করে।আমার কবিতা নামক অগোছালো শব্দগুলো শুনে তুমি খিলখিলিয়ে হাসবে,তাই দেখতে বড্ড ইচ্ছে করছে যে।কিন্তু কোথায় তুমি?অনেকদিন দেখিনা তোমায়,শুনি না তোমার সেই উচ্ছল হাসি।তোমার এই হাসি শুনতেই যে আমার বড্ড বেশি বাঁচতে ইচ্ছে করে।
আঠাশ অক্টোবর,
আমি জানি আজও তুমি আসবে,আজ যে অঝোর ধারায় আকাশ কাদছে।মেঘেরা ডাকছে গুম গুম করে,সেই ডাক যে শুধু বৃষ্টি বিলাসি তোমারি জন্য,কিভাবে সে ডাক তুমি ফেরাবে?আজ কি রঙে রাঙ্গিয়েছো নিজেকে?আকাশের মত নীলে নাকি মেঘের মত ধূসরে নাকি শিশির ভেজা ঘাসের মতই সবুজে?হাল্কা গোলাপিতে তোমায় খুব বেশি মানায়,জানোকি তা? খুব কষ্ট হচ্ছে আমার,বিছানা থেকে উঠার শক্তিটুকুও নেই,নইলে আজ তোমার হাত ধরে বৃষ্টি ভিজতাম,একটু ছুয়ে দিতাম তোমায়,এযে আমার কতো শাওন রাতের স্বপ্ন তা তো তোমার অজানা।
নাহ,সপ্ন দেখা আমার জন্য নয়,তাই আজকের এই বৃষ্টিতে মুছে দিলাম তোমায় নিয়ে বোনা সব স্বপ্নগুলো।তুমি ভাল থেকো মেয়ে।
আর লিখতে পারেনি রিহান।সত্যিই সব স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই ও চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে।ডায়েরিটা বন্ধ করে থাকে চুপ করে বসে থাকে রোদসী,দুফোঁটা অশ্রুজল গরিয়ে পড়ে ওর চিবুক বেয়ে।কারন এই মেয়েটা অন্য কেউ নয়,ও নিজেই।আজ সকালেই রিহানের বোন দিয়ে গেছে ডায়েরিটা।অচেনা প্রতিবেশির কাছ থেকে হঠাৎ ডায়েরিটা পেয়ে খুব অবাক হয়েছিলো ও আর পড়ার পর নির্বাক নিস্তব্ধ।কোনদিন বুঝতেও পারেনি এভাবে আড়াল থেকে দুটি চোখ ওকে দেখেছে,ভালবেসেছে নিরবে।কেনো কোনদিনও চোখ পড়েনি পাশের ওই বারান্দাটায়?
আজ খুব ইচ্ছে করছে ওই অচেনা ছেলেটাকে দেখতে,একটু ছুয়ে দিতে ইচ্ছে করছে ওকে।কিন্তু তার আগেইতো হারিয়ে গেছে সে,হয়ত এখনো আড়ালে থেকে রোদসীকে দেখবে ওই দূর আকাশের তারা হয়ে,হয়তো লিখবে কোন কবিতা।
কিছু ভালবাসা এমনই অস্পৃশ্য হয় যা খুজে পাওয়ার আগেই তা হারিয়ে যায়...কেউ তা জানতেও পারেনা।
-MARZIA MOURI-
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন