বাবার জন্য ভালোবাসা
By - রূপার পায়েল
ভ্যাপসা গরমের মাঝে ট্রেন তার আপন গতির চেয়েও মনে হয় কম গতিতে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে । সকল যাত্রীগনই বিরক্তি নিয়ে কষ্ট করে ট্রেনে চেপে বসে আছে আর সময় গুনছে কখন গন্ত্যবে পৌছুবে । আমার ও তার ব্যতিক্রম হয়নি কিন্তু হঠাত্ তোমার মুখের পানে নজর পড়তেই কেন জানি চারপাশ সহ সব কিছু ভুলে গেলাম । খুব মায়া লাগছে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে...( গরমে তোমার ও কষ্ট হচ্ছিল) মনে হয় যেন কত বছর পর তোমার সাথে আজ আমার দেখা ! কত বছর নয় তবে প্রায় তিন মাস হয়ে গেছে বাড়ি যাওয়া হয়না । তাই আমার এই প্রিয় মুখ- খানাও দেখা হয়নি । তোমার পাশে বসা ভদ্র মহিলাটির ও মায়া মাখা মুখ-খানাও অনেক দিন দেখা হয়নি । তাই আজ এমন অদ্ভুদ দৃষ্টিতে তোমাদের দুজনকে দেখছি ।
হ্যাঁ বাবা আমি তোমার কথাই বলছি যাকে আমি দুনিয়ার সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি আর জন্য আমার এতো মায়া । ধণীর দুলালীদের মতো করে কখনো তোমায় জড়িয়ে ধরে বলা হয়নি " আব্বু আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি " । মুখে না বললেও আমি জানি তোমার জন্য আমার অনেক ভালোবাসা । কেন জানি আজ ছোট বেলার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে ! ছোট বেলায় তোমার আদরের চেয়ে শাসনটাই মনে হয় বেশী প্রকাশ পেত । কিন্তু না আজ সেসব মনে পড়ছে না । একা একাই নিজের সাথে কত স্মৃতির কথা বলে যাচ্ছি ।
যখন হোন্ডার পিছনে বসিয়ে চুল কাটতে সেলুনে নিয়ে যেতে , তখন ছোট্ট আমিটা তোমাকে পিছনে জড়িয়ে ধরে বসে থাকতাম আর ভাবতাম তুমি থাকতে আমি পড়বো কেন ! চুলকাটা শেষে এক প্যাকেট চিপস , চকলেট অথবা বিস্কিট হাতে বাড়ি ফিরতাম । বাবা তোমার কি মনে আছে ছোট বেলায় আমাদের চুল আচঁড়িয়ে দেয়ার কথা , রাতের খাওয়া শেষে সবাই মিলে দাবা খেলার কথা ( আমি অবশ্য সবার চেয়ে কম পারতাম),বিকেল বেলায় পুকুর ঘাটে তোমার সাথে বসে মাছ ধরার কথা ? মনে পড়ে যাচ্ছে রাতের কথা গুলো , কেনাকাটার বেপারে তুমি কিছুটা মন ভুলোছিলে । একদিন দুদিন তিনদিন বলার পর যখন রং পেন্সিল আনতে ভুলে গেলে তখন চর্তুথ দিন রাতে বাড়ি ফেরার পর নিজের উপর বিরক্ত হয়ে আবার বেরিয়ে পড়লে রং পেন্সিল কিনতে ।সে রাতে রং পেন্সিল পেয়ে কি খুশিই না হয়েছিলাম ।
কনকনে শীতের রাতে যেদিন প্রথম আমার জন্য রেকেট কিনে আনলে , মনে পড়ছে সে সময়কার ছোট ছোট বিষয়ে আনন্দের কথা । এতো ভালোবাসলেও কেন জানি অজানা ভয় কাজ করত তোমার প্রতি । এ অমুলোক ভয়ের কারনে তখন অনেক কিছুই মিস করেছি । বাবা তুমি কি জানো , তোমার একবার জ্বর হলে ঘরের কোণে বসে কত চোখের জল ফেলেছি ? তুমি কি জানো -একবার তুমি আর আমি বাড়িতে একা , আর সেদিন তুমি সকালে না খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলে । আমিও সেদিন সকালে নাস্তা খেতে পাইনি , আমার বাবা যেখানে না খেয়ে বেরোয় আমি সেখানে কি করে খাই বলো ? ঝকঝক করে ট্রেন আপন গতিতে সামনে এগিয়ে চলছে আর আমি তোমার মলিন মুখখানার দিকে তাকিয়ে স্মৃতি চারণ করেই যাচ্ছি । আজ সেই ছোট আমিটা অনেক বড় হয়ে গেছি , বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি আজও মুখে বলা হয়নি বাবা তোমায় অনেক ভালোবাসি ।
খালাতো বোনের বিয়ে শেষে আমি একদিন আগেই ঢাকা ফিরি ।তুমিই তখন বাসে তুলে দিতে আসলে আর চলে যাবার সময় আমায় দুটো চকলেট কিনে দিয়ে প্রমাণ করলে আমি এখনো তোমার সেই ছোট মেয়েটিই আছি । এই বোধয় আমার প্রতি তোমার অপ্রকাশিত ভালোবাসা । কেমন যে অদ্ভুদ অনুভূতি কাজ করছিলো তথন বলে বোঝাতে পারব না । এজন্যই হয়তোবা তোমায় এতো ভালোবাসি বাবা . . . . . . ।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন