by- সুমাইয়া তানি

____১
ভোরবেলা ঘুম ভাঙার পর থেকেই অধরার মনটা আজ বেশ ভালো। তার মন ভালো থাকার একটা কারণ হচ্ছে, আজ সকালে মা তাকে স্কুলে পাঠায়নি। যেদিন অধরা স্কুলে যায়না সেদিন তার সারাটা দিন কাটে দাদুর সাথে। মাঝে মাঝে সে পাশের বাড়ির পিউলির সাথে খেলতে যায়। পিউলির অনেক খেলনা আছে। অধরার সবচেয়ে ভালো লাগে গান গাওয়া পুতুলটা। কি সুন্দর চাবি দিলেই পুতুলটা নাচতে নাচতে গান গায়। যদিও অধরা ওর মাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় তবুও একদিন সাহস করে সে মায়ের কাছ থেকে এমন একটা পুতুল চেয়েছিল। মা বলেছিল তার জন্মদিনে এমন একটা পুতুল
কিনে দেবে। অবশ্য তার জন্মদিনে মা তাকে পুতুল কিনে দিতে পারেনি। পুতুলের জন্য তার যত
না মন খারাপ হয়েছিল, তারচেয়ে বেশি মন খারাপ হয়েছিল সেইদিন প্রথম মাকে কাঁদতে দেখে।
তার মন ভালো থাকার অবশ্য আরও একটা কারণ আছে। দুধের গ্লাস খালি করার জন্য বকা দেয়া তো দূরের কথা, আজ মা সকাল
থেকে অনেক জায়গায় ফোন করতে করতে তাকে সকালের নাস্তা দিতেই ভুলে গেছে। দুধ খেতে অধরার একদমই ভালো লাগে না। আগে মা দুধ খেতে দিলে সে চুপিসারে দুধের গ্লাসটা দাদুকে দিয়ে আসত। এখন আর সেই
সুযোগটা নেই। কারণ একদিন
মা এটা দেখে ফেলে অধরাকে খুব
বকা দিয়েছিল। দাদু অনুরোধ না করলে সেদিন হয়ত মা ওকে থাপ্পড়ই মেরে বসত!
এত আনন্দের মধ্যেও অবশ্য অধরার মন কিছুটা খারাপ লাগছে। সকাল থেকে সে দুইবার যেয়ে দাদুর ঘরে উঁকি দিয়ে এসেছে। দাদু এতক্ষণ ধরে কখনই ঘুমায় না। অথচ আজ দাদু তাকে একবারও 'ভুতুম বুড়ি' বলে ডাক দেয়নি! 'ভুতুম বুড়ি' বলে ডাকলে অধরার খুবই মজা লাগে। কিন্তু মা এইসব ডাক একদমই পছন্দ করে না। একদিন তো সে দাদুকে বলেই দিল,
- আমার মেয়ের একটা ভালো নাম আছে বাবা। আপনি ওকে এইসব উদ্ভট নামে ডাকবেন না।
দাদুর উপর কোন কারণে অভিমান হলে অধরার খুব কান্না পায়। তার পাতলা ঠোঁটজোড়া একটু পর পরই ফুলে ফুলে উঠছে। তার এখন সত্যি সত্যিই মন খারাপ লাগছে।

_____২
বেলা বাড়ার সাথে সাথেই কাছের দূরের সব আত্মীয় স্বজন দিয়ে রেহানার দুই কামরার ছোট্ট বাসাটা ভরে গেল। অধরা অবাক
হয়ে তাকিয়ে আছে। জ্ঞান হওয়ার পর সে তাদের বাড়িতে একসাথে এত মানুষ দেখেনি। এত মানুষের মধ্যে নানুমনি, মামা, তরু মামী আর তন্বীপু ছাড়া ও আর কাওকেই চিনতে পারছে না সে!
মাকে গিয়ে সে একবার জিজ্ঞেসও
করে এসেছে,
- মামই এত মানুষ কেন আমাদের বাড়িতে?
রেহানা ওর মুখের দিকে এক নজর তাকিয়ে কিছু না বলেই চলে গেছে।
মরা বাড়িতে যেমন কান্নাকাটির আসর বসে যাওয়ার কথা তেমন কিছুই এই বাসায় নেই। শুধু নজরুল সাহেবের ছোট বোন
রোকেয়া বেগম বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই "ওরে আমার ভাই রে" বলে চিত্কার করে কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করেছেন। এখন অবশ্য তিনিও বেশ শান্ত আছেন। একটু
আগে তিনি রেহানাকে সবার জন্য লেবুর শরবত দিতে বলেছেন। সাথে এও বলেছেন, তার শরবতে যেন চিনি কম দেয়া হয়। ওনার
ডায়াবেটিস আছে।
রেহানা চোখমুখ শক্ত করে লেবুর শরবত বানাচ্ছে। ঘরে এমনিতেই চিনি ছিল না বেশি। দোকান থেকে যে আনাবে সেই উপায়ও নেই। এমনিতেই অনেক বাকি পড়ে আছে।
শরবতের ট্রে হাতে বসার ঘরে ঢুকল রেহানা। কান্নাকাটি না করলেও সবাই তাদের মুখে একটা দুখি দুখি ভাব ধরে রেখেছে। সবাই-ই সচেতনভাবে নিজেদের
দুখি দেখানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। রেহানার চাচি শ্বাশুড়ি মনোয়ারা বেগম খাটের উপর পা তুলে বসে পান সাজাচ্ছিলেন।
রেহানা কাছে যেতেই তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,
- রফিকরে খবর দেওয়া হইছেনি বউমা?
-- কল তো দেয়া হয়েছিল চাচি। ও ফোন তোলেনি।
রফিকের কথা ওঠায় চাচিকে বেশ আগ্রহী মনে হল। রেহানার সামনে গিয়ে গলা নামিয়ে তিনি বললেন,
- শুনলাম রফিক নাকি ঐ খ্রিষ্টান মাইয়ারে আরও আগেই বিয়ে কইরা রাখছিল? আমাগো অধির সমান নাকি একটা পোলা ও আছে?
এমন একটা সময়েও কেউ এইসব নিয়ে কিভাবে আলোচনা করতে পারে, এটা ভেবে রেহানার খুবই বিরক্তি লাগল। বিরক্তিটা চেপে বলল,
-- আমি ঠিক জানি না চাচি।
মনোয়ারা বেগম আরও কিছু
বলতে চেয়েছিলেন। রেহানা তাকে সেই সুযোগ দিল না। আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই ট্রেটা টেবিলে নামিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে গেল সে। তার এখন অনেক কাজ। এইসব কথা শোনার মত ধৈর্য্য অথবা সময় কোনটাই এই মূহুর্তে তার কাছে নেই। একটু আগে পাশের বাড়ির জহির সাহেব এসেছিলেন। কবরের জায়গা, কাফনের কাপড় সবকিছুর দায়িত্ব
তিনি নিজের হাতে নিয়েছেন। এইসবের জন্য টাকা দরকার। অথচ মাস শেষের দিকে হওয়ায়
রেহানার হাতে একটা পয়সা নেই! একজন মানুষ হয়ে কত দিক সামাল দেবে সে?
এর মধ্যে অধরা এসে একটু পর পরই কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করছে,
- মামই দাদুর কি হইছে? মামই দাদু কথা বলে না কেন?
রেহানার আর সহ্য হল না। ঠাস করে মেয়ের গালে একটা চড় মেরে বসল। মেয়েটা কিছু না বলেই এক
হাতে গালটা চেপে ধরে চলে গেল।
চড়টা মারার পরই খারাপ লাগল রেহানার। আহা বেচারি! চড়টা না মারলেই পারত। আজকাল তার অল্পতেই অসহ্যবোধ হয়। হয়ত সহ্য করার ক্ষমতাই তার নষ্ট হয়ে গেছে!

.

____ ৩
নজরুল সাহেব গত তিন বছর ধরে প্যারালাইসড হয়ে বিছানায় পড়েছিলেন। মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে যখন বেঁচে থাকাটা হয়ে যায় তার কাছে সবচেয়ে বড় শাস্তি, যখন নিজের মৃত্যু কামনা ছাড়া আল্লাহর কাছে চাওয়ার আর কিছু থাকে না।
আজ এই মৃত্যু নজরুল সাহেবকে মুক্তি দিয়ে দিয়েছে। তবুও তার কেন জানি খুব খারাপ লাগছে।
বেঁচে থাকতে কেউ তাকে কোনদিন দেখতে আসেনি তাকে। অথচ আজ তিনি মারা যাওয়ার
পর কত মানুষ তাকে দেখতে এসেছে!
মৃত্যুর সময় কোন সন্তানকেই পাশে পাননি তিনি। ছোট মেয়ে কান্তা স্বামীর সাথে থাকে আমেরিকায়।
বাবাকে শেষ দেখা দেখতে আসা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু
রফিকটা তো আসতে পারত! সম্পর্ক শেষ বললেই কি সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়? বাবা-ছেলের সম্পর্কটা কি এতটাই ঠুনকো?
ভুতুম বুড়িটার জন্য তার খুব কষ্ট হচ্ছে। ছোট বাচ্চাদের ভালোবাসা বোঝা যায়। মেয়েটার হয়ত তার কথা অনেক মনে পড়বে।
তবে সবচেয়ে বেশি মন খারাপ লাগছে তার রেহানার জন্য। আহারে বেচারি, একাই সবদিক সামাল দেয়া লাগছে। মরার আগে তো তিনি কম যন্ত্রণা দেননি মেয়েটাকে, আজ মরার পরও তিনি মেয়েটাকে কত যন্ত্রণা দিচ্ছেন।
এটা ঠিক মেয়েটা তাকে অনেক কঠিন কথাই শুনিয়েছে। হয়ত অনেক খারাপ ব্যবহারও করেছে তার সাথে। তিনি বৌমার দোষ দেন না। টানাটানির সংসারে এমন উটকো এক বৃদ্ধকে কেইবা সহ্য করত? নিজের সন্তানরাই
তো তাকে ছেড়ে চলে গেছে!
একটা বিষয় নিয়ে তার মনে আফসোস থেকেই গেল। এই হতভাগ্য মেয়েটাকে তিনি কতটা ভালোবাসেন সেটা তিনি বলে যেতে পারলেন না। তার মত একটা বৃদ্ধের ভালোবাসায় হয়ত মেয়েটার ভাগ্য পরিবর্তন হত না, তবুও তিনি ভেবেছিলেন মেয়েটাকে একদিন সামনে বসিয়ে দুটো কথা বলবেন। বলবেন,
- মাগো, আমার
ছেলে তোমাকে সুখি করতে পারেনি। বরং তোমার
কাঁধে আমাকে চাপিয়ে দিয়ে গেছে।
তুমি পারলে আমাদের ক্ষমা করে দিও। তোমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করতে ইচ্ছা করে গো মা। কিন্তু আল্লাহ আমার সেই ইচ্ছা পূরণের ক্ষমতা দেননি।
ছোট্ট এক জীবনে মানুষের বেশির ভাগ ইচ্ছাই অপূর্ণ থাকে। আচ্ছা, মৃত্যুর পরে কি মানুষের কোন ইচ্ছা পূরণ হয় না?
নজরুল সাহেব মনে মনে প্রার্থনা করলেন,
- এই মেয়েটা তার সারা জীবনে শুধু কষ্টই পেয়ে গেছে। যেই সুখটা তার প্রাপ্র ছিল সেই সুখটা নিয়তি তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। তুমি তাকে সুখী করো আল্লাহ।

_____৪
এত কিছুর মাঝেও রেহানা বোরখা গায়ে চাপিয়ে কোথায় যেন বেরিয়ে গেল। লাশ কাফনের কাপড় পড়িয়ে খাটিয়ায় রাখা হয়েছে। বাদ আসর জানাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রেহানা বাঁধা দিয়েছে। কেউ অবশ্য কোন
প্রশ্নও করেনি। না জানার ভান করলেও সবাই-ই আসলে জানে, এই অপেক্ষা রফিকের জন্য।
সকালবেলাই অন্তুর কাছে বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়েছে রফিক। তারপর থেকেই সে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটছে।
রফিকের এখনও ঐদিনটার কথা মনে পড়ে। ডাক্তারের রিপোর্টে ধরা পড়ল ওর দুটো কিডনীই নষ্ট হয়ে গেছে। সেদিন বাবা ওর হাতটা শক্ত করে ধরে বলেছিল,
-- আমি আমার ছেলেকে রক্ষা করব। মৃত্যুর সাধ্য নাই আমার ছেলের কাছে আসার।
কিডনী ট্রান্সপ্লান্ট করার মত বিশাল অংকের টাকা ছিল নজরুল সাহেবের সাধ্যের বাইরে। তবুও তার মধ্যবিত্ত বাবা হার মানল না। নিজের বাম কিডনী, জমি বিক্রির টাকা আর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাও যখন যথেষ্ট হল
না, তার আত্মসম্মানী বাবা মানুষের কাছে হাত পাতল। মৃত্যু এক সন্তানকে তার বাবার কঠিন রক্ষণ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারল না।
মনে পড়ে গেল বাবাকে বলা তার শেষ কথাগুলো,
- বাবা হিসেবে কবে কোন চাওয়াটা পূরণ করেছ তুমি আমার? তাই আজ যখন আমি মারিয়াকে বিয়ে করতে চাই তখন
আমাকে বাঁধা দেয়ার কোন অধিকার তোমার নেই। আর এটা নিয়ে যদি তোমাদের এতটাই
লোকলজ্জার ভয় হয় তবে তোমাদের সবার সাথে সম্পর্ক
আমি ছিন্ন করলাম।
এর কিছুদিন পরই বাবার মেজর স্টোক হয়। ডাক্তাররা ঘোষণা করে বাবা প্যারালাইজড হয়ে গেছেন। সেদিনও পিছু তাকায়নি রফিক। এতটাই অধম ছিল সে!
বিকাল থেকেই নদীর পাড়ে বসে আছে রফিক। এখন প্রায় সন্ধ্যা। ফোনের পর ফোন বেজে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবের মুখোমুখি হওয়ার মত সাহস তার নেই। আজ কিভাবে সে গিয়ে দাঁড়াবে বাবার সামনে? কিভাবে মুখোমুখি হবে সে ভাবীর?
কাঁধে কারও হাতের স্পর্শ পেতেই
চমকে পেছনে তাকাল রফিক। পেছনে রেহানা দাঁড়িয়ে আছে।
-- অনেকটা ভাগ্যের উপর নির্ভর করেই তোমাকে খুঁজতে এসেছিলাম। আজও তুমি মন খারাপের সময়গুলোতে এখানে বসে থাকো! কিছুটা আগের মতই আছো দেখছি।
- ভাবী..
চুপ করে আছে রফিক। নিজেকে ধরে রাখতে তার কষ্ট হচ্ছে। রেহানা রফিকের কাঁধে একটা হাত রাখল,
-- রফিক! একটাবার আমার সাথে চলো প্লিজ। তোমাকে ছাড়া বাবার খুব কষ্ট হচ্ছে..

.

____৫
খাটিয়া কাঁধে তোলা হয়েছে। লাশকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার অন্তিম গন্তব্যে। কাঁধের উপর বাবার লাশটা এত ভারি মনে হচ্ছে কেন? রফিকের চিত্কার
করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু পুরুষ মানুষরা চাইলেই কাঁদতে পারে না।
আম গাছটার নিচে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে রেহানা।
পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদো কাঁদো গলায়
অধরা প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছে,
- মামই, দাদু কোথায় যাচ্ছে? দাদু কখন আসবে? দাদু আমাকে ডাকে না কেন??...ও মামই কথা বল না কেন তুমি!
আস্তে আস্তে বাড়ি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ১০ টার আগে পুরো বাড়িই ফাঁকা হয়ে গেল। রেহানা বারান্দায় এসে দেখল মেয়েটা পা ছড়িয়ে বসে এখনও কাঁদছে। ছোট্ট
অধীরা এতক্ষণে বুঝে গেছে দাদু আর কখনও ফিরে আসবে না। রেহানা মেয়ের পাশে যেয়ে বসল। অধরা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
- আমার দাদু কেন চলে গেল মামই? দাদু কি আমার উপর রাগ করেছে? ও মামই আমি আর দাদুর সাথে দুষ্টমি করব না। তুমি আল্লাহকে বল না যেন আমার দাদুকে ফিরিয়ে দেয়।
আজ সারাদিন একটা বারের জন্যও চোখের পানি ফেলেনি সে। এই বৃদ্ধ মানুষটার প্রতি তার দুর্বলতাটা রেহানা দেখাতে চায়নি কাওকে।
কিন্তু এখন কেন জানি কারও বুকে মাথা রেখে খুব কাঁদতে ইচ্ছা করছে তার।
অভাবের এই সংসারে লোকটাকে ঠিকমত ওষুধ পর্যন্ত কিনে খাওয়াতে পারেনি সে। একদিন তো কঠিন স্বরেই বলেই দিয়েছিল,
-- এক ছেলে তো সবকিছু ছেড়ে চিরদিনের জন্যই চলে গেছে। আরেক ছেলে তো দিব্যি বিয়ে করে সুখে সংসার করছে। আমার উপর পুরো সংসারের দায়িত্ব
বাবা। চার হাজার টাকার বেতনে আমাকে সব দিক সামলাতে হয়। পুরো মাসের বেতন দিয়ে তো আপনাকে ওষুধ খাওয়ানো সম্ভব না!
নিয়তি তার কাছ থেকে শফিককে কেড়ে নিয়েছিল। নতুন করে জীবন শুরু করতে পারত সে। কিন্তু এই বৃদ্ধের কঠিন ভালোবাসা উপেক্ষা করার ক্ষমতা আল্লাহ তাকে দেননি।
কত ডাক্তারের কাছেই না সে ছুটেছে। বাবাকে সুস্থ করতে চেয়েছিল। কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেনি। নিজের গয়না বিক্রির সমস্ত টাকা রেহানা এই মানুষটার চিকিত্সার পেছনে খরচ করেছে।
তবুও সে জীবনের কাছে হেরেই গেল। কাছের মানুষগুলো এভাবেই হারিয়ে গেছে। তাদের ধরে রাখার ক্ষমতা তার ছিল না।
এই বৃদ্ধ মানুষটাকে সে কতটা ভালোবাসে এইটা কি কেউ জানে? ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর সে যে এই মানুষটাকে নিজের বাবার জায়গায় বসিয়েছিল এই কথা কি কেউ জানে?
রেহানার বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। শফিক মারা যাওয়ার পর এই বৃদ্ধলোকটাই
তাকে বলেছিল,
- নিজেকে কখনও একা মনে করো না। তুমি তো আমার মেয়ের মত না, তুমি যে আমার মেয়ে রে মা।
আজ যে তার সব হারিয়ে গেল। রেহানার চিত্কার করে বলতে ইচ্ছে করছে,
-- বাবা আমি যে একেবারেই
একা হয়ে গেলাম!
মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে চিত্কার করে কাঁদছে রেহানা। এই ছোট্ট শিশুটাকে সে কিভাবে বুঝাবে যে মৃত্যুই জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য..আর সব মিথ্যা! এই ক্ষমতাও যে আল্লাহ তাকে দেননি! কেন তাকে আল্লাহ
এতটা অক্ষমতা দিয়ে পাঠিয়েছেন এই পৃথিবীতে?
আহারে... জীবন এত কষ্টের কেন? জীবন এত কষ্টের কেন??
 
Top